বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে দুই বন্ধু হুলিয়ান আলভারেজ ও ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। ছবি: রয়টার্স
আর্জেন্টাইন তারকা স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজকে কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নয় স্প্যানিশ জায়ান্ট আতলেতিকো মাদ্রিদ। কাতালান ক্লাব বার্সেলোনা এবং রিয়াল মাদ্রিদের তীক্ষ্ণ নজর ও চোখধাঁধানো প্রস্তাবের মুখ থেকেও আলভারেজকে মাদ্রিদে ধরে রাখতে এবার এক মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। জাতীয় দলে আলভারেজের নিকটতম বন্ধু ও বিশ্বস্ত সতীর্থ ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান ‘কুটি’ রোমেরোকে ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম হটস্পার থেকে উড়িয়ে এনে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ আলভারেজের জন্য আরও আত্মিক করে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে আতলেতিকো।
সাম্প্রতিক সময়ে আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর আলভারেজ প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন যে, ক্যারিয়ারের নতুন ‘স্বপ্নপূরণ’ করতে তিনি মাদ্রিদের আবহাওয়া বদলাতে চান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জোরালো দাবি ছিল, এই স্ট্রাইকারের আসল গন্তব্য মূলত বার্সেলোনা। পরবর্তীতে কাতালান ক্লাবটির পক্ষ থেকে ১০ কোটি ইউরোর বিশাল প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হলেও তা সরাসরি নাকচ করে দেয় আতলেতিকো। উল্টো বার্সেলোনার অন্যায্য ও নিয়মবহির্ভূত যোগাযোগের কড়া সমালোচনা করে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) কাছে লিখিত অভিযোগও ঠুকে দেয় তারা। ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তির দীর্ঘ মেয়াদ এবং ৫০ কোটি ইউরোর পর্বতসম রিলিজ ক্লজ থাকা সত্ত্বেও আলভারেজের ক্লাব ছাড়ার অবাধ্য প্রবণতায় একেবারেই নির্ভার হতে পারছে না আতলেতিকোর নীতিনির্ধারকরা।
ঠিক এই জটিল ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক মার্কার খবর অনুযায়ী, টটেনহাম থেকে ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে সই করানোর জন্য কোমর বেঁধে নেমেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। রক্ষণভাগকে বিশ্বের সেরা মানের দুর্গ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি রোমেরোর আগমন আলভারেজের মন গলানোর সবচেয়ে বড় ওষুধ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে তারা। চলতি গ্রীষ্মের দলবদল মৌসুমে টটেনহাম ছাড়তে রোমেরো নিজেও বেশ মুখিয়ে আছেন। যদিও প্রিমিয়ার লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী আর্সেনালে যোগ দেওয়ার ব্যক্তিগত ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন রোমেরো, কিন্তু টটেনহাম কখনোই নিজেদের লিগ রাইভাল বা প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কাছে তারকা ফুটবলার বিক্রি করতে রাজি নয়। আর এই সুযোগটিকে পুরোদমে কাজে লাগাতে চাইছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
আলভারেজ ও ‘কুটি’ রোমেরোর দীর্ঘদিনের আত্মিক বন্ধন কেবল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে আলভারেজের ওপর রোমেরোর ইতিবাচক ও প্রবল মানসিক প্রভাব রয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে ২০২৪ সালে আতলেতিকোয় যোগ দেওয়ার পরপরই নিজের প্রথম সাক্ষাৎকারে আলভারেজ স্পষ্ট স্বীকার করেছিলেন যে, ক্যারিয়ারে মুখোমুখি হওয়া ডিফেন্ডারদের মধ্যে রোমেরোই ছিলেন সবচেয়ে কঠিন ও সেরা। প্রায় ৪ কোটি ইউরো ট্রান্সফার ফিতে রোমেরোকে টটেনহাম থেকে উড়িয়ে আনতে বেশ আশাবাদী আতলেতিকো। ড্রেসিংরুমে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু ও সহযোগীকে পাশে পেলে আলভারেজের বার্সায় পাড়ি জমানোর তীব্র জল্পনা অবশেষে পুরোপুরি শান্ত হবে বলেই দৃঢ় বিশ্বাস ক্লাব কর্তাদের।