বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাবা হোর্হে মেসির সঙ্গে ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি।
রোজারিওর মালভিনাস মাঠের গ্যালারির প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষের দৃষ্টি সর্বদা নিবদ্ধ থাকত মাঠে ফুটবল পায়ে দৌড়ে বাড়ানো এক ছোট্ট শিশুর দিকে। বিগত তিন দশকে মাঠের আয়তন বদলালেও সেই পিতার অবস্থান কখনো বদলায়নি; তিনি সর্বদাই থেকে গেছেন সন্তানের এক বিশ্বস্ত নেপথ্য ছায়া হিসেবে।
৬৮ বছর বয়সে जन्मশহর রোজারিওতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হোর্হে মেসির প্রয়াণ সেই দীর্ঘ নীরব অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছে।
কৈশোরে নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের যুবদলে খেলেছিলেন হোর্হে হোরাসিও মেসি। তবে সামরিক দায়িত্বের বাধ্যবাধকতায় ফুটবল ছেড়ে পরবর্তীতে রাসায়নিক প্রযুক্তিবিদ্যায় পড়াশোনা শেষে আশির দশকে আকিন্দার ইস্পাত কারখানায় যোগ দেন এবং কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে ব্যবস্থাপক পদে উন্নীত করেন। লিওনেল মেসির ফুটবলীয় মেধার বিকাশ প্রত্যক্ষ করে সিনিয়র মেসি সন্তানের শারীরিক বৃদ্ধির ঘাটতি চিহ্নিত করতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসায় ধরা পড়ে হরমোনজনিত জটিলতা।
প্রতি মাসে ১৫০০ ডলারের ব্যয়বহুল গ্রোথ হরমোন ইনজেকশন প্রদান মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠেছিল। নিজের সঞ্চয় ও কারখানার সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা চালালেও দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় বহনে অক্ষমতা জানায় স্থানীয় ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে লিওর ফুটবলীয় দক্ষতার ভিডিওটেপ পৌঁছায় স্পেনে কর্মরত ব্যবসায়ী হোরাশিও গাহগিওলির হাতে। সেখান থেকে সাবেক বার্সা কর্মকর্তা রেশাকের নজরে আসেন তরুণ মেসি। ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আটলান্টিক পাড়ি দেন হোর্হে।

বার্সেলোনায় ট্রায়ালে প্রতিভা দেখালেও চুক্তি নিয়ে ক্লাবের দীর্ঘসূত্রতায় হোর্হে মেসি দেশে ফিরে যাওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী মিনহেলার চাপে পড়ে বার্সেলোনা কর্মকর্তা রেশাক একটি কাগজের নেপকিনে মেসির যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার ও বাবার কর্মসংস্থানের অঙ্গীকারনামা স্বাক্ষর করেন।
বার্সেলোনায় প্রাথমিক বছরগুলো ছিল চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক সংগ্রামের। মাতৃভাষা থেকে দূরে ও পরিবারবিচ্ছিন্ন অবস্থায় বাবা-ছেলে দুজনেই গোপনে অশ্রুপাত করতেন। একপর্যায়ে হোর্হে মেসি সন্তানকে দেশে ফেরার সুযোগ দিলেও লিওর প্রবল ইচ্ছার মুখে তিনি স্পেনেই অবস্থান করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
১৪ বছর বয়সে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্তানের এজেন্টের দায়িত্ব নেন হোর্হে মেসি। পরবর্তীতে বার্সেলোনায় চুক্তি নবায়ন, পিএসজিতে স্থানান্তর এবং ক্যারিয়ারের শেষভাগে ইন্টার মায়ামিতে যোগদানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন তিনি।
জনসমক্ষে প্রচারবিমুখ হোর্হে মেসি সর্বদা নেপথ্যে থেকেই পরিবার ও সন্তানের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে গ্যালারিতে তাঁর অনুপস্থিতি ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ব্যক্তিগত কঠিন পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছিলেন লিওনেল মেসি, যা মূলত তাঁর পিতার গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার সাথে সম্পর্কিত ছিল।
ফুটবল বিশ্ব লিওনেল মেসির অর্জিত ট্রফি ও রেকর্ড মনে রাখলেও এর নেপথ্যে রয়ে গেছে একজন পিতার ত্যাগ ও ধারাবাহিক সমর্থনের গল্প।