বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দিনভর জমজমাট লড়াইয়ে মাতিয়ে রাখলেন দেশের তরুণ ও উদীয়মান কমব্যাট ফাইটাররা। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো অপেশাদার মার্শাল আর্ট প্রতিযোগিতা ‘ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি প্রেজেন্টস জুলকান বিটডাউন ০২’।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির অত্যাধুনিক কমব্যাট ভেন্যু ‘জুলকান ইনডোর অ্যারেনা’-র দোতলার মূল রিংয়ে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া অ্যামেচার ফাইটাররা নিজেদের দক্ষতা ও সামর্থ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।
দেশের অপেশাদার ফাইটারদের আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতার সঙ্গে পরিচিত করা, তাদের শারীরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দক্ষতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে পেশাদার পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দিনব্যাপী প্রতিযোগিতায় মিক্সড মার্শাল আর্টস (এমএমএ), বক্সিং ও কিকবক্সিং—এই তিন ডিসিপ্লিনে অনুষ্ঠিত হয় ২০টিরও বেশি বাউট। প্রতিটি লড়াই ছিল ৩ মিনিটের তিন রাউন্ডে। ফাইটারদের কৌশল, গতি, টেকনিক্যাল দক্ষতা ও জয়ের জন্য তীব্র লড়াই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘সুপার ৪ অ্যামেচার চ্যাম্পিয়নশিপ’। এ পর্বে সেমিফাইনালে জয় পাওয়া দুই ফাইটার একই দিনে ফাইনালে মুখোমুখি হন। চূড়ান্ত লড়াইয়ে জয়ী ফাইটারদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বহুল প্রত্যাশিত জুলকান বিটডাউন চ্যাম্পিয়নশিপ বেল্ট।
এবারের আসরে মোট ৮টি ক্যাটাগরিতে বেল্ট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি একক বাউটে বিজয়ী ফাইটারদেরও দেওয়া হয় আকর্ষণীয় মেডেল। পুরুষদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি নারী কিকবক্সিংয়ের ৫০ ও ৬৫ কেজি ওজন শ্রেণির লড়াইও ছিল দর্শকদের বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর ছিল ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। উচ্চ-ঝুঁকির এ ধরনের কমব্যাট স্পোর্টসে অংশগ্রহণকারী ফাইটারদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফিসিয়াল হেলথকেয়ার পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। প্রতিযোগিতা চলাকালে রিংসাইডে সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিমের উপস্থিতি ফাইটারদের নিরাপত্তা ও আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করে।
পুরো আয়োজনজুড়ে অফিসিয়াল এমসি ওয়াহিদার প্রাণবন্ত উপস্থাপনা প্রতিযোগিতার উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। তার উপস্থাপনায় পুরো ভেন্যুতে তৈরি হয় আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্রীড়া আয়োজনের আবহ।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর অ্যারেনা একটি বিশেষায়িত কমব্যাট স্পোর্টস সেন্টার। এখানে রয়েছে পেশাদার বক্সিং রিং, আন্তর্জাতিক মানের ফুল-সাইজ এমএমএ কেজ বা অক্টাগন, গ্র্যাপলিং ও রেসলিং ম্যাট এবং আধুনিক ফিটনেস সরঞ্জাম।
জুলকান বিটডাউনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির হেড অব অপারেশনস মাসুদুর রহমান মান্না বলেন, “প্রফেশনাল লেভেলে ফাইটার পেতে হলে অ্যামেচার লেভেলের ফাইটারদের ওপর ফোকাস করতে হবে। সেই পরিকল্পনা থেকেই জুলকান বিটডাউনের আবির্ভাব। ইনশাল্লাহ, এই বিটডাউনের মাধ্যমে আমরা ভবিষ্যতে এমন প্রফেশনাল ফাইটার তৈরি করতে পারব, যারা বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করবে।”
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধারাবাহিকভাবে এমন প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে দেশের অ্যামেচার কমব্যাট স্পোর্টসের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো দক্ষ ফাইটার তৈরির পথ সুগম হবে।