বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
বিশ্বকাপ ও ফিফার অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। পরিকল্পনাটি ঘোষণার মাত্র চার দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হলেও তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন থামছে না। বরং পদত্যাগের দাবিও জোরালো হচ্ছে।
এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, ৫৬ বছর বয়সী সুইস আইনজীবী ইনফান্তিনো ২০৩১ সাল পর্যন্ত ফিফা সভাপতির দায়িত্বে থাকার লক্ষ্যে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। আগামী মার্চে মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থী থাকবে না বলেই ধারণা করা হয়েছিল। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।
তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ইনফান্তিনোর বিরোধীরা কি একজন শক্তিশালী প্রার্থীকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেন?
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্তাগ্লিয়ানি। দীর্ঘদিন ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হলেও সাম্প্রতিক বিতর্কিত ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) পরিকল্পনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন তিনি।
কনকাকাফ ইতোমধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে ওই পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে।
ইনফান্তিনোর সমালোচকরা চাইলে ফিফা কাউন্সিলের জরুরি সভা আহ্বানের উদ্যোগও নিতে পারেন। এজন্য ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলে অন্তত ১৯ জনের সমর্থন প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় সমর্থন মিললে দুই সপ্তাহের মধ্যেই সভা আয়োজন বাধ্যতামূলক।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের সমালোচনায় থাকা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং কনকাকাফ—এই তিন কনফেডারেশনের হাতেই কাউন্সিলের মোট ২১টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে উয়েফার ৯, এএফসির ৭ এবং কনকাকাফের ৫টি আসন।
আরও কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের ব্যবস্থাও রয়েছে। ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের অন্তত ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৪৩টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন লিখিতভাবে আবেদন করলে বিশেষ কংগ্রেস ডেকে অনাস্থা প্রস্তাব তোলা সম্ভব।
এখন পর্যন্ত ওয়েলস, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও সার্বিয়া প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক মরক্কো তার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন অব্যাহত রেখেছে।
নেতৃত্ব পরিবর্তনের লড়াই হলে মন্তাগ্লিয়ানিকে সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে কনকাকাফের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কানাডিয়ান এই ফুটবল প্রশাসক। তার আগের দুই সভাপতি ফিফার দুর্নীতি কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পর সংগঠনটিকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন তিনি।
তবে তার অতীতও বিতর্কমুক্ত নয়। কানাডা নারী ফুটবলের সাবেক কোচ বব বিরার্দার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ যথাসময়ে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে না পারায় কানাডা সকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সে সময় সংগঠনটির সহ-সভাপতি ছিলেন মন্তাগ্লিয়ানি। যদিও অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
২০২২ সালের ম্যাকলারেন তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিরার্দাকে সময়মতো বরখাস্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আরও খেলোয়াড়দের ঝুঁকির মুখে ফেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।
এসব বিতর্ক সত্ত্বেও ফুটবল প্রশাসনে দক্ষ সংগঠক ও সমন্বয়কারী হিসেবে মন্তাগ্লিয়ানির সুনাম রয়েছে। কনকাকাফ সভাপতি নির্বাচনে তিনি নিজের অর্থায়নে তিন মাস ধরে ৪১টি দেশ সফর করে প্রচারণা চালিয়েছিলেন।
সে অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এক সাক্ষাৎকারে মন্তাগ্লিয়ানি বলেন, “আমি যখন কোনো সিদ্ধান্ত নিই, তখন পুরোপুরি সেটির পেছনে নেমে পড়ি। কনকাকাফ নির্বাচনের সময় নিজের অর্থে তিন মাস প্রচারণা চালিয়েছি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলার উপকূলের ছোট্ট দ্বীপ বোনায়ার পর্যন্ত ৪১টি দেশ সফর করেছি।”