বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়মের তদন্ত শেষে একাধিক নিয়মভঙ্গের দায় স্বীকার করেছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি। এর ফলে ক্লাবটিকে ১ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পয়েন্ট কাটা বা খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর শাস্তি কার্যকর করা হয়নি।
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে খেলোয়াড়দের এজেন্টদের অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কয়েকটি খেলোয়াড় বদলির সময় নিবন্ধিত নন এমন এজেন্ট ও তৃতীয় পক্ষকে গোপনে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড (প্রায় ৭৭৫ কোটি টাকা) পরিশোধ করেছিল ক্লাবটি।
এই অনিয়মগুলো ঘটেছিল রোমান আব্রামোভিচের মালিকানাধীন সময়ে। ২০২২ সালে টড বোহলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটাল ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান মালিকপক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে এফএর কাছে ৭৪টি নিয়মভঙ্গের তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি জমা দেয়। এফএর স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশনের মতে, নতুন মালিকপক্ষ নিজ উদ্যোগে তথ্য প্রকাশ না করলে এসব অনিয়ম হয়তো কখনোই প্রকাশ্যে আসত না।
শুরুতে চেলসির জন্য ২ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা এবং নিজেরাই অনিয়ম প্রকাশ করায় প্রথমে জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে ১ কোটি ৭২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড করা হয়। পরে দ্রুত দায় স্বীকার করায় সেটিও আরও কমানো হয়। শেষ পর্যন্ত উয়েফা ও প্রিমিয়ার লিগের আগের শাস্তিগুলো বিবেচনায় নিয়ে জরিমানা ১ কোটি পাউন্ডে নির্ধারণ করা হয়েছে। এফএ জানিয়েছে, এই অর্থ ইংল্যান্ডের তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
জরিমানার পাশাপাশি চেলসিকে দুই দলবদল মৌসুমে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা এবং ছয় পয়েন্ট কর্তনের শাস্তিও দেওয়া হয়েছে। তবে উভয় শাস্তি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে ক্লাবটি নতুন কোনো নিয়মভঙ্গ না করলে শাস্তিগুলো কার্যকর হবে না। কমিশনের ভাষ্য, এফএ বা প্রিমিয়ার লিগ কেউই তাৎক্ষণিকভাবে পয়েন্ট কর্তনের আবেদন না করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত শেষ হওয়ার পর এক বিবৃতিতে চেলসি জানায়, এফএর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্লাবকে ঘিরে চলমান সব নিয়ন্ত্রক তদন্তের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার জন্য তারা এফএ, উয়েফা ও প্রিমিয়ার লিগকে ধন্যবাদও জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে একাডেমির খেলোয়াড় নিবন্ধনসংক্রান্ত অনিয়মের দায়ে চেলসিকে নয় মাসের নিষেধাজ্ঞা ও ৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড জরিমানাও করা হয়েছিল। তবে অতীতের অনিয়ম নিজেরাই প্রকাশ করে তদন্তে সহযোগিতা করায় এবার সম্ভাব্য আরও কঠোর শাস্তি এড়াতে সক্ষম হয়েছে ক্লাবটি।