বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
লিওনেল মেসির বয়স এখন ৩৯। তবে মাঠের ফুটবলে তাকে দেখলে সেটা মনেই হবে। সেই আগের মতই খেলছেন দুর্দান্ত। একের পর এক ম্যাচে গোল করছেন। আর্জেন্টিনাকে টানা জয়ে রেখে তুলছেন বিশ্বকাপের টানা দ্বিতীয় ফাইনালে। আজ রাত ১টায় শিরোপা নির্ধারনী ম্যাচে স্পেনের মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এ ম্যাচে কিং লিওকে ডাকছে একগাদা রেকর্ড।
প্রথম গোল্ডেন বুট জয়ের থেকে মেসি এক পা দূর। অপেক্ষায় তৃতীয় গোল্ডেন বল জেতার। দুইটি মিলে গেলে তার হাতে উঠে যেতে পারে দ্বিতীয় বিশ্বকাপের শিরোপা। সব মিলে গেলে তার নবম ও সর্বোচ্চ ব্যালন ডি’ আর ঠেকাবে কে?
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মেসি করেছেন ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট। এজন্য তিনি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিলেন। তবে গতকাল রাতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপে জোড়া গোল করে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন। তার গোল এখন ১০টি, অ্যাসিস্ট ৪টি। মেসি ফাইনালে ২ গোল করলে এমবাপেকে ছাড়িয়ে নিজের প্রথম গোল্ডেন বুট জিতবেন। স্পেনের জাল ছিড়ে মেসি গোল করতে পারলে শুধু নিজের অর্জনই না, আর্জেন্টিনাকে শিরোপার পথে এগিয়ে নেবেন নিশ্চিতভাবে। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও কখনো গোল্ডেন বুট না জেতা মেসির শোকেস নিশ্চিতভাবেই এই পুরস্কারের অপেক্ষায়।
এর আগে মেসি গোল্ডেন বল জিতেছেন দুইবার। ২০১৪ এবং ২০২২ সালে। ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেননি মেসি। ২০২২ সালে দলকে শিরোপা জিতিয়েছিলেন। এবারও মেসি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন গোল্ডেন বল তার হাতে উঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনো কোনো খেলোয়াড় তিনবার এই ট্রফি জেতেনেনি। মেসি স্রেফ ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায়।
৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে নামবেন মেসি। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে তিনিই হবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড ফুটবলার। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফাইনাল খেলার রেকর্ডটি এখনো ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফের দখলে।
এটি হবে মেসির তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কীর্তি গড়বেন তিনি। এর আগে ডিয়েগো ম্যারাডোনা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। সব দেশের হিসেবে মেসির আগে কেবল ব্রাজিলের কাফু তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন।
২০২২ সালে কাতারের লুসাইলে মেসির চিরকালীন আক্ষেপ দূর হয় বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে। চার বছর পর মেসি ঠিক একই রোমাঞ্চের অপেক্ষায়। একই অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। টানা দুই বিশ্বকাপ জিততে পারলে মেসির সাফল্যের মুকুটে যে পালক যুক্ত হবে তা নিশ্চিতভাবেই, সর্বকালের সেরা ফুটবলারের যে বিতর্ক তা ইতি টেনে দিতে পারবে। মেসিকে সর্বকালের সেরা বলতে আর দ্বিধা থাকবে না।
স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিততে পারলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুইবার ট্রফি জয়ের রেকর্ড গড়বেন মেসি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা হবে ব্রাজিল ও ইতালির পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দেশ। সেই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বয়সে টানা দুই বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার হওয়ার কীর্তিও গড়বেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। এবারও গোল করতে পারলে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়বেন।
আর যদি দুটি গোল করতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ চার গোলের রেকর্ডে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের পাশে জায়গা করে নেবেন। হ্যাটট্রিক করতে পারলে সেই রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেবেন।
এছাড়া ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিতে পারলে চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও ভাঙতে পারবেন মেসি। বর্তমানে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর করা আট গোলই এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।
ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ পুরস্কার ব্যালন ডি’অর। যেকোনো ফুটবলারের জন্য এই পুরস্কার আরাধ্য। এলএমটেন এই পুরস্কার জিতেছেন ৮টি। নবম ব্যালন ডি’ অর জেতার দৌড়ে মেসিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে এগিয়ে। ২০২৬ ব্যালন ডি’অর দেওয়া হবে গত বছরের আগস্ট থেকে এই বছরের আগস্ট পর্যন্ত পারফরম্যান্স বিবেচনা করে। মানে বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের বড় প্রভাব থাকবে।
স্পেনের বিপক্ষে মেসির আজকের রাতটা ঐশ্বর্যময়। ফুটবল মাঠে তার আরেকটি ভালো দিন তাকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু আরেকটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়, বরং লিওনেল মেসির জন্য ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে লেখার এক বিরল সুযোগ।