বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় আরও সম্পৃক্ত করতে জাতীয় পর্যায়ে পৃথক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ৮ বিঘা জমির ওপর খেলার মাঠ নির্মাণ, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি দুইটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। সভার কার্যবিবরণী থেকে এ সব তথ্য জানা গেছে।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের মহানগর থেকে গ্রামীণ জনপদ পর্যন্ত পর্যাপ্ত খেলার মাঠ গড়ে তোলা জরুরি। নতুন প্রজন্মকে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে রেখে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান মাঠ সংস্কার, নতুন মাঠ নির্মাণ এবং ক্রীড়া অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় যুব ও ক্রীড়া সচিব জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য খেলার মাঠ চিহ্নিত করার কার্যক্রম চলছে।
ভূমি মন্ত্রণালয় জানায়, অধিগ্রহণ করা জমি প্রয়োজন অনুযায়ী বিধি অনুসরণ করে অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০ একর জমির তালিকা দিয়েছে, যা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ও তাদের অব্যবহৃত বা লিজ দেওয়া জমি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে ব্যবহারের আগ্রহ প্রকাশ করে।
এদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানায়, ঢাকা সিটি করপোরেশন, রাজউক ও অন্যান্য সংস্থার অধীন মাঠগুলো এমওইউর মাধ্যমে সংস্কার করে খেলাধুলার জন্য ব্যবহার করা সম্ভব।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) জানায়, বিভিন্ন সংস্থার মাঠ উন্নয়নের জন্য তারা একটি স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন তৈরি করবে, যাতে সারাদেশে একই মানের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়।
সভায় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে জাতীয় পর্যায়ে পৃথক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তাবে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগও সম্মতি জানায়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে শুধুমাত্র মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এতে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ও আগ্রহ বাড়বে বলে সভায় মত দেওয়া হয়।
এছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ তৈরির জন্য ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠাবেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিদিন শিক্ষা কার্যক্রম শেষে এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি ১০ হাজার ১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ তৈরির চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে ফুটসালের জনপ্রিয়তা বিবেচনায় নিয়ে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি দুইটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল মাঠ নির্মাণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, রাজউক এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার আওতায় থাকা মাঠগুলো সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। রেলপথ, পানি সম্পদ, সড়ক ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত জমিও খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের জন্য চিহ্নিত করা হবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের স্ট্যান্ডার্ড ডিজাইন অনুসরণ করে মাঠ উন্নয়ন করা হবে।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে ৩০ জুনের মধ্যে খেলার মাঠ নির্মাণযোগ্য জমির তথ্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।