বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সি
ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় প্রায়ই দেখা যায়, একই দলের দুটি ভিন্ন রঙের জার্সি রয়েছে। একটি জার্সি বেশি পরিচিত হলেও অন্যটির রঙ ও নকশা অনেকটাই আলাদা। কিন্তু কেন একটি দলের একাধিক জার্সি থাকে?
ফুটবলে প্রতিটি দলের একটি প্রধান বা ‘হোম জার্সি’ থাকে যা দলটির ঐতিহ্য ও পরিচয়ের প্রতীক। সাধারণত নিজেদের মাঠে খেলার সময় খেলোয়াড়রা এই জার্সি পরেন। অন্যদিকে ‘অ্যাওয়ে জার্সি’ হলো বিকল্প পোশাক যা মূলত প্রতিপক্ষের মাঠে বা রঙের মিল এড়ানোর প্রয়োজন হলে ব্যবহার করা হয়।
যখন দুটি দলের জার্সির রঙ কাছাকাছি হয় তখন দর্শক, রেফারি ও খেলোয়াড়দের জন্য দল আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা দূর করতেই অতিথি দলকে ভিন্ন রঙের জার্সি পরতে হয়। অ্যাওয়ে জার্সির জন্য নির্দিষ্ট কোনো রঙ বাধ্যতামূলক নয়; কেবল প্রতিপক্ষের জার্সি থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা হলেই চলে।
বিশ্বকাপ, ইউরো বা কোপা আমেরিকার মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ম্যাচগুলো সাধারণত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে আয়োজক সংস্থা একটি দলকে ‘হোম টিম’ এবং অন্য দলকে ‘অ্যাওয়ে টিম’ হিসেবে নির্ধারণ করে দেয়। হোম টিম তাদের প্রধান জার্সি পরার সুযোগ পায়, আর প্রয়োজন হলে অন্য দল অ্যাওয়ে জার্সি ব্যবহার করে।
হোম জার্সি শুধু একটি পোশাক নয়; এটি একটি ক্লাব বা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আবেগের অংশ। গুরুত্বপূর্ণ জয়, শিরোপা অর্জন কিংবা স্মরণীয় ম্যাচের সঙ্গে এই জার্সি জড়িয়ে থাকে। ফলে অধিকাংশ সমর্থকের কাছেই হোম জার্সির বিশেষ মূল্য রয়েছে।
অন্যদিকে অ্যাওয়ে জার্সির জন্ম হয়েছে বাস্তব প্রয়োজন থেকে। তবে সময়ের সঙ্গে এটি ডিজাইনারদের সৃজনশীলতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। অনেক ক্লাব ও জাতীয় দল অ্যাওয়ে জার্সিতে নতুন রঙ ও ব্যতিক্রমী নকশা ব্যবহার করে থাকে যা কখনও কখনও হোম জার্সির চেয়েও বেশি জনপ্রিয়তা পায়।

অনেকের ধারণা, অ্যাওয়ে জার্সি মানেই সাদা রঙের হবে। বাস্তবে এমন কোনো নিয়ম নেই। অ্যাওয়ে জার্সি কালো, লাল, নীল, গোলাপি, বেগুনি কিংবা অন্য যেকোনো রঙের হতে পারে। মূল শর্ত হলো এটি যেন প্রতিপক্ষের জার্সির সঙ্গে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে।
অ্যাওয়ে জার্সির ধারণা প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় ১৮৯০ সালে, যখন ফুটবল লীগ দলগুলোর জন্য আলাদা রঙ নিবন্ধনের নিয়ম প্রণয়ন করে। পরে ১৯২১ সালে স্পষ্টভাবে বলা হয়, রঙের মিল হলে অতিথি দলকে জার্সি পরিবর্তন করতে হবে। রঙিন টেলিভিশনের যুগে প্রবেশের পর এই নিয়মের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

বর্তমানে হোম ও অ্যাওয়ে জার্সির পাশাপাশি অনেক দল তৃতীয় জার্সিও ব্যবহার করে। প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যাচভেদে বিভিন্ন জার্সি পরলেও প্রতিটি জার্সিই একটি দলের পরিচয় ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সব মিলিয়ে ফুটবলে হোম জার্সি দলীয় ঐতিহ্যের প্রতীক, আর অ্যাওয়ে জার্সি খেলার সুবিধা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।