বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকেই প্রথমবারের মতো ৩২ দলের পরিবর্তে ৪৮টি দল নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে বিশ্বমঞ্চের মহাযজ্ঞ। টুর্নামেন্টের পরিধি বাড়ায় এবার কুরাসাও, কেপ ভার্দে ও উজবেকিস্তানের মতো একাধিক দল প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে। তবে এই বর্ধিত দল নিয়ে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের এক বিতর্কিত মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে নতুন ঝড় তুলেছে। সেফেরিনের মতে, দলের সংখ্যা বাড়ায় এবারের বিশ্বকাপে অনেক ম্যাচ হবে ‘একেবারেই অনাড়ম্বর ও একঘেয়ে’।
উয়েফা প্রধানের এমন মন্তব্যের পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১৩টি দেশ। রোববার (১৪ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো সেফেরিনের এই বক্তব্যকে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ আখ্যা দিয়ে তা “শ্রদ্ধার সাথে কিন্তু দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান” করেছে।
স্লোভেনিয়ার একটি সংবাদপত্র ‘দেলো’-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক আগে উয়েফা প্রধান আলেকসান্দার সেফেরিন মন্তব্য করেছিলেন যে, টুর্নামেন্টের পরিধি ৪৮ দলে উন্নীত করায় এর গুণগত মান ও তীব্রতা কমে যাবে। সেফেরিনকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি লেখে, ‘আমাদের এমন অনেক ম্যাচ দেখতে হবে যা একেবারেই অনাড়ম্বর ও একঘেয়ে।’
অবশ্য স্লোভেনিয়ার আরেকটি সংবাদমাধ্যমে সেফেরিনের অন্য একটি ইতিবাচক বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “অন্য দিক থেকে দেখলে, ছোট দেশগুলোও বিশ্বমঞ্চে অংশ নিতে পারছে এবং বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ অনুভব করতে পারছে, যা একটি দারুণ ব্যাপার।” তবে তাঁর প্রথম মন্তব্যটিই বেশি নজর কাড়ে এবং বিতর্ক তৈরি করে।
সেফেরিনের মন্তব্যের জবাবে বিশ্বকাপ ডেবিউট্যান্ট কেপ ভার্দে, কুরাসাও ও উজবেকিস্তানসহ ১৩টি দেশের ফুটবল ফেডারেশন একজোট হয়ে একটি কড়া যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমাদের দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই গুরুত্বহীন বা কম গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। এই ম্যাচগুলোকে কোনোভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ইঙ্গিত করাটা অত্যন্ত হতাশাজনক। এটি বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড়, কোচ, ক্লাব, ফুটবল সংগঠক এবং সমর্থকদের প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও আকাঙ্ক্ষাকে স্বীকৃতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশেরই সমান “সম্মান পাওয়ার অধিকার” রয়েছে। প্রতিটি দল নিজের যোগ্যতাবলে এখানে জায়গা করে নিয়েছে এবং বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে প্রতিটি ম্যাচের একটি ভিন্ন আবেগ ও অর্থ রয়েছে।
নতুন তিন দল ছাড়াও আফ্রিকার বেশ কয়েকটি পরাশক্তি এবং ল্যাটিন আমেরিকার দেশ এই প্রতিবাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো- কেপ ভার্দে, কুরাসাও, উজবেকিস্তান, মরক্কো, মিশর, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ঘানা, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, দক্ষিণ আফ্রিকা, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, হাইতি।
এই প্রতিবাদের পর ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির পক্ষ থেকে উয়েফা প্রধানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে উয়েফার একজন মুখপাত্র সেফেরিনের এই মন্তব্যটি সরাসরি অস্বীকার করেননি। তবে তিনি সাংবাদিকদের উয়েফা প্রধানের গত সপ্তাহে দেওয়া অন্য একটি সাক্ষাৎকারের কথা মনে করিয়ে দেন, যেখানে বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানো নিয়ে কোনো নেতিবাচক মন্তব্য ছিল না।