বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে দায়ের করা বহুল আলোচিত মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি লড়াই শেষে বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে নাসির ও তামিমাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন নাসির ও তামিমা।
এর আগে গত ৬ মে মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করলেও আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু রায়ের পর বলেন, অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি। আদালত ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও তার বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
রাকিবের দাবি ছিল, বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের সঙ্গে তামিমার বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জেনে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
মামলায় অভিযোগ আনা হয়, তামিমা বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রেখেই নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী অবৈধ। একইসঙ্গে নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে গেছেন এবং এ ঘটনায় বাদী ও তার সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
মামলার অভিযোগ গ্রহণের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত শেষে আদালত অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে উভয় পক্ষ উচ্চ আদালতে রিভিশন আবেদন করলেও ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বিচার চলমান রাখার আদেশ দেন।
মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের আগে বাদী রাকিব হাসান বলেন, জোর করে তো একসঙ্গে থাকা যায় না। সে আমার শত্রু নয়। তবে কেউ যেন অন্যের স্ত্রীকে নিয়ে যেতে না পারে সে জন্য আমি ন্যায়বিচারের আশায় লড়েছি।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে এবং সাজা হলে সমাজে এ ধরনের প্রবণতা কমবে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষ শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, মামলার অভিযোগ টেকসই নয় এবং নাসির-তামিমা নির্দোষ। শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে সেই অবস্থানই প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তাদের আইনজীবী।
বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আইনি অনিশ্চয়তার অবসান হলো।