বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো- ছবি : সংগৃহীত
ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু দল আছে, যাদের সামর্থ্য নিয়ে কখনও প্রশ্ন ওঠে না কিন্তু সাফল্যের খাতায় থেকে যায় অপূর্ণতার গল্প। পর্তুগাল ঠিক তেমনই একটি নাম। প্রতিভাবান ফুটবলার, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং বড় মঞ্চে দারুণ সব মুহূর্ত উপহার দিয়েও বিশ্বকাপ শিরোপা এখনো অধরাই রয়ে গেছে তাদের কাছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তাই নতুন করে আলোচনায় পর্তুগাল এবার কি বদলাবে ইতিহাস, নাকি আবারও স্বপ্নভঙ্গ হবে?
বিশ্বকাপে পর্তুগালের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালে। প্রথম অংশগ্রহণেই তারা বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের জানান দেয়। কিংবদন্তি ইউসেবিওর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সেবার তৃতীয় স্থান অর্জন করে দলটি। আজও সেটিই বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা সাফল্য। এরপর দীর্ঘ সময় নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে তারা।
নতুন শতাব্দীতে এসে বদলে যায় পর্তুগালের পরিচয়। ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি ধীরে ধীরে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তিতে পরিণত হয়। ২০০৬ সালে সেমিফাইনাল এবং ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে তারা প্রমাণ করে যে বড় টুর্নামেন্টে লড়াই করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
বর্তমান পর্তুগালকে আলাদা করে তোলে তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দলগঠন। একসময় যেখানে পুরো দল নির্ভর করত একজন বা দুজন তারকার ওপর, এখন সেখানে প্রতিটি বিভাগেই রয়েছে মানসম্পন্ন খেলোয়াড়। মাঝমাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বার্নার্দো সিলভা আক্রমণের ছন্দ তৈরি করেন। তাদের সৃজনশীলতা, পাসিং এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে।

রক্ষণভাগে রুবেন দিয়াসের নেতৃত্ব দলকে দিয়েছে বাড়তি স্থিতিশীলতা। তার উপস্থিতিতে পর্তুগালের ডিফেন্স অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত। আর আক্রমণভাগে এখনও সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বয়স বাড়লেও গোল করার তৃষ্ণা, অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র করে রেখেছে।
বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানও পর্তুগালের প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার প্রমাণ দেয়। এখন পর্যন্ত তারা বিশ্বকাপে ৩৫টি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ১৭টিতে জয়, ৬টিতে ড্র এবং ১২টিতে পরাজয় এসেছে। দলটি মোট ৬১ গোল করেছে, বিপরীতে হজম করেছে ৪১ গোল। সংখ্যাগুলোই বলে দেয়, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে পর্তুগাল কখনোই শুধু অংশগ্রহণকারী দল ছিল না বরং ছিল শিরোপার দাবিদারদের একটি।
পর্তুগালের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্যক্তিগত অর্জন ইউসেবিওর। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে তার ৯ গোল আজও দেশের সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড। অন্যদিকে ২০১০ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৭-০ গোলের জয় বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় গল্প নিঃসন্দেহে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে। ফুটবল বিশ্বের অনেকের বিশ্বাস, এটি হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। পাঁচটি বিশ্বকাপ খেলা এই মহাতারকা ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে হয়তো সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাচ্ছেন। বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও তার অর্জনের তালিকায় যোগ হয়নি। ফলে এবারের মিশন তার জন্য শুধু আরেকটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং ইতিহাস লেখার শেষ সুযোগও হতে পারে।
রোনালদোর পাশাপাশি নজর থাকবে ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা ও রুবেন দিয়াসের ওপর। অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি প্রতিটি বিভাগেই ভারসাম্যপূর্ণ। আর সেই কারণেই তাদের অনেকেই শিরোপার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে দেখছেন।
দলের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। আধুনিক ফুটবল দর্শন, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং ম্যাচ পরিচালনায় তার দক্ষতা ইতোমধ্যে পর্তুগালকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তার অধীনে দলটি আরও আক্রমণাত্মক, আত্মবিশ্বাসী এবং সংগঠিত ফুটবল খেলছে। ২০২৫ সালে ইউরোপিয়ান নেশনস লিগ জয়ের মাধ্যমে সেই অগ্রগতির প্রমাণও দিয়েছে তারা।
এখন প্রশ্ন একটাই রোনালদোর বিদায়ী বিশ্বকাপ কি পর্তুগালের জন্য হবে সোনালি ইতিহাস রচনার মঞ্চ? নাকি আরও একটি সম্ভাবনাময় অধ্যায় শেষ হবে অপূর্ণতার আক্ষেপ নিয়ে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। তবে এটুকু নিশ্চিত, ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে ঘিরে প্রত্যাশা, আবেগ ও স্বপ্নের কোনো কমতি থাকবে না।