বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : প্রতিনিধি
সিলেট টেস্টে পাকিস্তানকে ‘ডাবল হোয়াইটওয়াশ’ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল একটি কীর্তি গড়েছে। ঢাকায় সিরিজ জয় করার পরই সিলেটে অনুষ্ঠিত টেস্টেও বাংলাদেশের আধিপত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ৪৩৭ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান চতুর্থ দিনের শেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান সংগ্রহ করেছিল।
শেষ দিনে জয়ের জন্য আরও ১২১ রান দরকার ছিল হাতে মাত্র তিনটি উইকেট। তবে বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হয় ১৫ মিনিট দেরিতে যা স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা শঙ্কা তৈরি করেছিল।
শুরুর দিকে পাকিস্তানের ব্যাটিং বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছিল। নাহিদ রানারের বোলিংয়ে কয়েকবার সুযোগ তৈরি হলেও উইকেট পড়ছিল না। তাসকিন আহমেদের বোলিংও শুরুতে ছন্দছাড়া ছিল। ফলে স্কোরবোর্ড দ্রুত এগোচ্ছে। তবে ম্যাচের ধারা পুরোপুরি পাল্টে দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।
৯১তম ওভারে বোলিংয়ে আসার পর প্রথম আঘাত তিনি হানেন সাজিদ খানের উইকেটে। এরপর মুহূর্তেই পাকিস্তানের শেষ ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। সাজিদ খান, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও খুররাম শাহজাদের আউটের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়।
মোহাম্মদ রিজওয়ান ছিলেন পাকিস্তানের ইনিংসের প্রধান ব্যাটার। তার ১৬৬ বলের ৯৪ রানের ইনিংস পাকিস্তানকে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। তবে প্রথমবারের মতো আক্রমণে আসা শরিফুল ইসলাম তার উইকেট নিয়ে ম্যাচের চাবিকাঠি বদলে দেন। মেহেদী হাসান মিরাজের অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে রিজওয়ানকে বিদায় নেওয়ায় পাকিস্তানের জয় আশা শেষ হয়ে যায়।
পরের ওভারে তাইজুল খুররাম শাহজাদকে তুলে নেন। তানজিদ হাসানের চমৎকার ক্যাচের মাধ্যমে পাকিস্তানের শেষ উইকেটও পড়ে। তাইজুল ইসলাম ছয়টি উইকেট নিয়ে ম্যাচের পুরো ধারা ঘুরিয়ে দেন।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসও ছিল দাপুটে। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমেও শুরুতে বিপর্যয়ে পড়েছিল দলটি। কিন্তু লিটন দাসের ঝলমলে সেঞ্চুরি ১২৬ রানে দলের সংগ্রহকে ২৭৮ রানে পৌঁছে দেয়। মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি এবং মাহমুদুল হাসান জয় ও লিটনের হাফ-সেঞ্চুরির মাধ্যমে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান সংগ্রহ করে। পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করা হয় ফলে বিশাল লক্ষ্য দাঁড়ায়।
সার্বিকভাবে দেখা যায়, পুরো ম্যাচ জুড়ে ব্যাটিং-বোলিং দুই দিকেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ ও পাহাড়সম লক্ষ্য পাকিস্তানের স্বপ্নকে চূর্ণ করে। এই জয়ে বাংলাদেশের অর্জন ছিল নজিরবিহীন। তারা টানা দুটি টেস্ট সিরিজ জিতলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। দেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো এবং ইতিহাসের দ্বিতীয় দল হিসেবে পাকিস্তানকে পরপর দুটি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার রেকর্ড গড়লো।
তাইজুল ইসলামের দারুণ বোলিং, লিটন দাসের ব্যাটিং কৌশল এবং দলের সামগ্রিক একযোগে খেলাই বাংলাদেশের এই বিজয়ের মূল চাবিকাঠি।
এই জয় শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের জয় নয় এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। ঢাকার পর সিলেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে টাইগাররা দেখিয়ে দিয়েছে দেশের মাটিতেও তারা যে কোনো প্রতিপক্ষের ওপর পূর্ণ আধিপত্য রাখতে সক্ষম। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্তে ব্যাটার ও বোলারের অবদান, মোমেন্টাম ঘুরানোর কৌশল, ফিল্ডিং ও স্ট্র্যাটেজি সবই মিলিয়ে বাংলাদেশের জয়ের গল্প আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।