বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

আইপিএল (ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ) ও পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ) এর ব্যস্ত সূচির কারণে বেশ কয়েকজন নিয়মিত তারকাকে ছাড়াই বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। আইপিএলে খেলার কারণে দলটির অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারসহ রাচিন রবীন্দ্র, গ্লেন ফিলিপস, টিম সাইফার্ট, ফিন অ্যালেন, কাইল জেমিসন, জেকব ডাফি ও লকি ফার্গুসন এই সিরিজে নেই। একইভাবে পিএসএলে অংশ নেওয়ায় দলে অনুপস্থিত মার্ক চ্যাপম্যান ও ড্যারিল মিচেলও। ফলে তুলনামূলকভাবে তরুণ ও অনভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের নিয়েই মাঠে নামে নিউজিল্যান্ড। তবুও সেই দলই প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে জয় তুলে নেয়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে বোলিং করে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখায় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে ২৪৭ রানে আটকে দিয়ে জয়ের ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়। কিন্তু রান তাড়ায় নেমে ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে ফেলে স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ২৬ রানের ব্যবধানে হার মেনে নিতে হয় মেহেদী হাসান মিরাজের দলকে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে আজ উপস্থিত হয়েছিলেন অনেক নামীদামি ব্যক্তিবর্গ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবনির্বাচিত সভাপতি তামিম ইকবাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকরা মাঠে বসে দেখেছিলেন এই ম্যাচ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো তাদের।
২৪৮ রানের লক্ষ্যে নামা বাংলাদেশ ৩.২ ওভারে ২ উইকেটে ২১ রানে পরিণত হয়। চতুর্থ ওভারের প্রথম ও দ্বিতীয় বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট নেন নিউজিল্যান্ডের পেসার নাথান স্মিথ। দুটি উইকেটই বোল্ড। হ্যাটট্রিক বলের মোকাবিলা করতে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন দাস। তবে স্মিথ পারেননি হ্যাটট্রিক করতে।
দ্রুত ২ উইকেট পড়ার পর বাংলাদেশকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন লিটন দাস ও সাইফ হাসান। লিটনের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়তে অবদান রেখেছেন সাইফ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিতে সাইফের লেগেছে ৫৯ বল। যেখানে ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বলে জশ ক্লার্কসনকে হ্যাটট্রিক চার মারেন সাইফ। ক্লার্কসনের করা সেই ওভারের তৃতীয় বলটি ছিল ওয়াইড। সাবলীল ব্যাটিং করতে থাকা সাইফ ৭৬ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় ৫৭ রান করে আউট হয়েছেন। ২৩তম ওভারের তৃতীয় বলে উইলিয়াম ও’রুর্কের শর্ট বলে কী করবেন বুঝে উঠতে না পেরে ক্রস ব্যাটে চালিয়ে দিয়েছেন সাইফ। মিড অনে ক্লার্কসন সহজ ক্যাচ তালুবন্দী করেন।
সাইফের বিদায়ের পর উইকেটে আসেন তাওহীদ হৃদয়। একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে নিঃসঙ্গ শেরপার মতো লড়ে গেছেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ৬০ বলে ৫৫ রান করে থেমে যায় তার ইনিংস। এদিন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ, শরিফুল কিংবা তাসকিনরাও ব্যাট হাতে নিস্প্রভ ছিলেন। যে কারণে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় টাইগারদের।
অথচ, এর আগে কোচ-ক্যাপ্টেনের আস্থার প্রতিদান দারুণভাবেই দেন রিশাদ হোসেন। পিএসএলে ছন্দে না থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে হাজির হন নিজের চেনা ফর্মে। শরিফুল ইসলাম হয়ত মোস্তাফিজুর রহমান একাদশে থাকলে খেলার সুযোগই পেতেন না, তিনিই কঠিন ধাঁধায় ফেলেন কিউইদের।
মোস্তাফিজুর রহমান শেষমুহুর্তে চোট পাওয়ায় ছিলেন না একাদশে, তাসকিন-শরিফুল-নাহিদ রানাকে নিয়ে সাজানো পেস লাইনআপ শুরুতে একটু ভুগেছে। ৭ম ওভারে নিক কেলিকে শরিফুল সাজঘরে ফেরালেও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়ং। দুজনের ৭৩ রানের জুটি ভাঙে ৪২ বলে ৩০ রান করে ইয়ং বিদায় নিলে, রিশাদের প্রথম শিকারে পরিণত হয়ে।
২৫ ওভার শেষেও নিউজিল্যান্ডকেই রাখতে হচ্ছিল চালকের আসনে। তবে অধিনায়ক মেহেদি মিরাজ প্রতিপক্ষ অধিনায়ক টম ল্যাথামকে ফেরালে তার খানিক পরই ভয়ংকর হয়ে ওঠা নিকোলসকে শিকার করেন রিশাদ। আর তাতে মোমেন্টামও চলে আসে বাংলাদেশের দিকে। মোহাম্মদ আব্বাসকে শিকার করেন শরিফুল, এরপর ডিন ফক্সক্রফট বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালান। ভাগ্য পক্ষে না থাকায় রিশাদের নামের পাশে উইকেটের সংখ্যা বাড়েনি।
শেষদিকে বাংলাদেশের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান ফক্সক্রফট। ওয়ানডে ফরম্যাটের সাথে ব্যাটিংয়ের তাল ঠিক রেখে তুলে নেন অর্ধশতক। যদিও দলীয় রান রেট ছিল কম। শেষপর্যন্ত আড়াইশর কাছাকাছি পৌঁছে যায় কিউইরা। ৫৮ বলে ৫৯ রান করে ক্ষান্ত হন ফক্সক্রফট, হাঁকান ৮টি চার। কিউইদের গোটা ইনিংসে ছিল না কোনো ছক্কা।
বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ শিকার করেন দুটি করে উইকেট। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৭ রান তুলে নিউজিল্যান্ড। আর এই অল্প রানের পুুঁজি নিয়েই জয় তুলে নেয় কিউরা। ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপূণ্যে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে নেন ডিন ফক্সক্রফট।