বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার স্বপ্ন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। তারপরও শেষ ম্যাচে অন্তত জয় দিয়ে অভিযান শেষ করার প্রত্যাশা ছিল দলটির। কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
ম্যাচজুড়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছে হামজা, শমিত ও জায়ানরা। মাঠে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েও শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি দল। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে উঠা ম্যাচে সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা মেলেনি বাংলাদেশের।
অন্যদিকে নিজেদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে জয় নিশ্চিত করে সিঙ্গাপুর। ফলে ভালো খেলেও পরাজয়ের হতাশা নিয়েই বাছাইপর্ব শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে।
দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশা লুকাতে পারেননি প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। প্রতিপক্ষের মাঠে ভালো খেলার পরও হেরে যাওয়াটা তার কাছে মেনে নেওয়া কঠিন বলে জানান তিনি।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ৬ ম্যাচে এক জয়, দুই ড্র ও তিন হার নিয়ে এবারের বাছাই পর্ব শেষ করলো বাংলাদেশ।
হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম, জায়ান আহমেদদের নিয়ে এবার বড় স্বপ্ন দেখেছিল বাংলাদেশ। বাছাই পেরুনোর স্বপ্ন গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর শেষটা অন্তত ভালো করার লক্ষ্য ছিল, কিন্তু সেটাও পূরণ না হওয়ার হতাশা ঝরল কাবরেরার কণ্ঠে।
‘বাছাইপর্বে আমাদের গ্রুপে আমার মনে হয় না, আমরা কোনো দলের চেয়ে খারাপ খেলেছি; বরং অনেক প্রতিপক্ষের চেয়েই আমরা সব ম্যাচে ভালো খেলেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আমরা মাত্র ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছি। আজকের ম্যাচের কথাই যদি বলি, আমি বলছি না যে, সিঙ্গাপুর এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্য নয়; কিন্তু আজকের খেলায় কোনো সংশয় নেই যে আমরা তাদের চেয়ে অনেক উন্নত মানের ফুটবল খেলেছি।’
হাভিয়ের কাবরেরা আরও বলেন, ‘আজকের ফলাফল মেনে নেওয়া খুবই কঠিন, কারণ সম্ভবত পুরো গ্রুপ পর্বের মধ্যে এটাই ছিল আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। দল নিশ্চিতভাবেই জয়, অথবা অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল। আমি খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক গর্বিত, আর এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমরা মাঝে মাঝে কীভাবে হারছি, সেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আর আজকে যেভাবে দল হেরেছে, তাতে আমি তাদের নিয়ে ভীষণ গর্বিত। পুরো ম্যাচে আমাদের আধিপত্য ছিল। আজকের এই পারফরম্যান্সের জন্য আমি দলকে অভিনন্দন জানাই।’
৩১ মিনিটে সুযোগ পায় সিঙ্গাপুর, আর সেই সুযোগটিই কাজে লাগিয়েছে তারা। তবে বাংলাদেশও বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ পেয়েছে, তবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে পোস্ট বাধা হয়ে না দাঁড়ালে ম্যাচের ফল ভিন্ন রকম হতেও পারত। তবে বাংলাদেশ দলের গোল করার সক্ষমতা যে অনেক কম, সেটি অবশ্য অকপটেই স্বীকার করলেন কাবরেরা।
‘আমাদের ইতিবাচক হতে হবে, পরিবর্তন আসছে। মাঠে খেলোয়াড়দের মান এখন স্পষ্ট; আমরা আরও অভিজ্ঞতা অর্জন করছি, আমাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব বাড়ছে। খেলোয়াড়রা এখন জানে কীভাবে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। অনেক ভালো দিক আছে, তবে সিঙ্গাপুরের মতো দলগুলোর একটি সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা আছে, যে দিকটায় আমাদের এখনও কিছুটা অভাব রয়েছে। দল যদি এই জায়গাটিতে উন্নতি করতে পারে, তবে আগামী কয়েক বছরে আপনারা দেখবেন বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে আরও ২০-৩০ ধাপ এগিয়ে গেছে।’
সম্ভাব্য সেই অগ্রযাত্রার সময় বাংলাদেশের ডাগআউটে আদৌ কাবরেরাকে দেখা যাবে কিনা, সেটিও এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এই স্প্যানিশ কোচের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি এপ্রিলেই। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কাবরেরাও স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি; বরং সময়ের হাতেই যেন ছেড়ে দিয়েছেন সব সিদ্ধান্ত।
‘দেখা যাক কী হয়, এখনও এক মাস বাকি আছে। তবে আমার পরামর্শ হলো কাজ চালিয়ে যাওয়া। সত্যি বলতে, কে দায়িত্বে আছে সেটা বড় বিষয় নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং দলকে একটি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিচার করা। আমি মনে করি, উন্নতিটা দৃশ্যমান। আমার অধীনে যা অভাব ছিল তা হলো সম্ভবত আরও কিছু ইতিবাচক ফলাফল।’
কাবরেরা বলেন, ‘আমার মনে হয়, ফেডারেশনের উচিত এই একঝাঁক খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখা। অনূর্ধ্ব-২০ সাফে আপনারা যেমনটা দেখেছেন, সেই তরুণ খেলোয়াড়দের তুলে এনে দলে কিছুটা পরিবর্তন এনে এগিয়ে যেতে হবে। খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করা এবং সুযোগ দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে; তাহলে অচিরেই আমরা আজকের মতো ম্যাচগুলো জিততে সক্ষম হব।’