বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

অলিম্পিকের নারী বিভাগে আর অংশ নিতে পারবেন না ট্রান্সজেন্ডার নারী (যারা পুরুষ থেকে নারী হয়েছেন) এবং ডিএসডি অ্যাথলেটরা। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। আইওসির প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কভেন্ট্রি এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছেন, জৈবিক পুরুষদের নারী বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা মোটেও ‘ন্যায়সঙ্গত’ নয়।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অলিম্পিকের নারী বিভাগে অংশ নিতে চাওয়া প্রতিটি অ্যাথলেটকে একবারের জন্য সেক্স ডিটারমাইনিং রিজিয়ন ওয়াই জিন (এসআরওয়াই) স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এটি মূলত একটি সাধারণ লালা বা গালের কোষের পরীক্ষা, যার মাধ্যমে অ্যাথলেটের প্রকৃত জৈবিক লিঙ্গ শনাক্ত করা হবে। কভেন্ট্রি জানান, একজন সাবেক অ্যাথলেট হিসেবে আমি অলিম্পিকে স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার অধিকারে বিশ্বাস করি। এই নীতিটি সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি করা হয়েছে।
আইওসির ১০ পৃষ্ঠার এক নথিতে জানানো হয়েছে, পুরুষ হিসেবে বয়ঃসন্ধিকাল পার করা অ্যাথলেটদের শারীরিক গঠন ও শক্তি নারী অ্যাথলেটদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। দৌড় বা সাঁতারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্যের হার ১০-১২ শতাংশ, কিন্তু নিক্ষেপ বা লাফানোর ক্ষেত্রে তা ২০ শতাংশের বেশি হতে পারে। এমনকি শক্তি প্রদর্শনকারী খেলাগুলোতে (যেমন লিফটিং বা পাঞ্চিং) এই পার্থক্যের হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে নিউজিল্যান্ডের ভারোত্তোলক লরেল হাবার্ড প্রথম ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার কাস্টার সেমেনিয়া বা ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী বক্সার ইমানে খলিফের মতো ডিএসডি অ্যাথলেটদের নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। আইওসি মনে করে, অলিম্পিক আন্দোলনের মূল স্বার্থেই নারী বিভাগের স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা বজায় রাখা জরুরি।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ব্রিটিশ চ্যারিটি ‘সেক্স ম্যাটারস’। সংস্থাটির অন্তর্বর্তীকালীন চেয়ার এম্মা হিলটন বলেন, “এসআরওয়াই স্ক্রিনিং একটি সাধারণ ও অমূলক পরীক্ষা, যা নারী অ্যাথলেটদের জন্য তাঁদের খেলাকে নিরাপদ ও স্বচ্ছ করবে।
তবে ‘ডিএসডি ফ্যামিলিজ’-এর মতো কিছু সংস্থা এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এমন নিয়ম যেন কোনো সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মর্যাদাহানি বা ক্ষতির কারণ না হয়।
আইওসি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই নিয়ম কেবল পেশাদার ও উচ্চপর্যায়ের অলিম্পিক গেমসের জন্য প্রযোজ্য হবে, তৃণমূল পর্যায়ের কোনো ক্রীড়া কর্মসূচির জন্য নয়।