বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

দাপুটে পারফরম্যান্সে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আলো ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত নকআউটের বাধা পেরোতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনালে বড় ম্যাচের চাপ সামলাতে না পেরে আবারও থেমে গেলো তাদের পথচলা। বিপরীতে দুর্দান্ত কৌশল আর দৃঢ় মানসিকতায় জয় তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ড। নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট, যেখানে শিরোপার লড়াই হবে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে।
বুধবারের (০৪ মার্চ) এই সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৯ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী শতকে মাত্র ১২.৫ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড। অ্যালেন মাত্র ৩৩ বলে অপরাজিত ১০০ রান করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন।
ম্যাচের শুরুতেই টস ভাগ্য সহায় ছিল নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের। শুষ্ক উইকেটে কিউই বোলাররা শুরু থেকেই চেপে ধরেন প্রোটিয়াদের। বিশেষ করে চোট পাওয়া ক্রিকেটারের বদলি হিসেবে একাদশে সুযোগ পাওয়া কোল ম্যাককনকি নিজের একমাত্র ওভারেই কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনকে বিদায় করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিপদে ফেলেন। মাত্র ১২ রানে ২ উইকেট হারানোর পর এইডেন মার্করাম ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিস প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। পাওয়ার প্লে শেষে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৪৮ রান।
মাঝপথে রাচিন রবীন্দ্রর ঘূর্ণিতে মার্করাম ও ডেভিড মিলার দ্রুত ফিরে গেলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হতে থাকে। ৭৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা প্রোটিয়াদের পথ দেখান মার্কো জানসেন ও ট্রিস্টান স্টাবস। জানসেনের ২৭ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংসে লড়াকু পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। কিউইদের পক্ষে রাচিন রবীন্দ্র ও ম্যাককনকি দুটি করে উইকেট নেন।
তবে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ড যা করল, তাকে একপাক্ষিক তাণ্ডব বললেও কম হবে। ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্ট শুরু থেকেই প্রোটিয়া বোলারদের ওপর চড়াও হন। পাওয়ার প্লের মধ্যেই তারা কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৪ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। সাইফার্ট ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ফিন অ্যালেন আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতক ছোঁয়ার পর পরবর্তী ৫০ রান করতে তিনি খেলেন মাত্র ১৪ বল। কাগিসো রাবাদা ১১৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও অ্যালেনকে থামাতে পারেননি। ১০টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ৩৩ বলে ১০০ রান পূর্ণ করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি।
এই জয়ে ২০২১ সালে হাতছাড়া হওয়া শিরোপা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আহমেদাবাদের ফাইনালে পা রাখল নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে গ্রুপ পর্বে অপ্রতিরোধ্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে আরও একবার আসর থেকে বিদায় নিতে হলো খালি হাতেই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬৯/৮ (২০ ওভার); জানসেন ৫৫*, স্টাবস ২৮। রবীন্দ্র ২/২৯, ম্যাককনকি ২/৯।
নিউজিল্যান্ড: ১৭৩/১ (১২.৫ ওভার); ফিন অ্যালেন ১০০*, সাইফার্ট ৫৮। রাবাদা ১/৩৭।
ফল: নিউজিল্যান্ড ৯ উইকেটে জয়ী।