বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি- সংগৃহীত
ভারতের বিপক্ষে হারের ধাক্কা থেকে এখনও বের হতে পারেনি পাকিস্তান ক্রিকেট দল। দলটির সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে কথার লড়াই এখনও চলমান। এই বিতর্কের সর্বশেষ খবর হলো শাদাব খানকে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জেতার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ সালমান-শাদাবরা কি পারবেন এই চ্যালেঞ্জ জিতে সুপার এইটে শুভসূচনা করতে! নাকি নিউজিল্যান্ড বাজিমাত করবে! তবে এই উত্তেজনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে, বেরসিক বৃষ্টি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। এদিকে ৬টার দিকে রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা।
প্রেমাদাসা বলেই কিঞ্চিৎ হলেও এগিয়ে থাকবে পাকিস্তান। এই স্টেডিয়ামের মন্থর উইকেটে পাকিস্তানি স্পিনারদের মোকাবিলা করা খুব একটা সহজ হবে না। এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের জন্য আরও একটি চ্যালেঞ্জ হলো ভেন্যু বদল। গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ তারা খেলেছে ভারতের চেন্নাই ও আহমেদাবাদে। এই মাঠেই ছিল স্পোর্টিং উইকেট। পেস ও স্পিনের ভারসাম্যপূর্ণ একটি বোলিং আক্রমণ সাজিয়ে ছিল তারা আগের ম্যাচগুলোতে। কিন্তু প্রেমাদাসায় স্পিন প্রাধান্য দিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজাতে হবে। দলের মূল স্পিনার মিচেল স্যান্টনার মাত্রই চোট থেকে উঠেছেন। আজ হয়তো তিনি মাঠে নামবেন। কিন্তু স্যান্টনার ছাড়া নিউজিল্যান্ড দলে তো তেমন স্পিনারই নাই! রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস এবার নিয়মিত বোলিং করছেন না।
তাই কলম্বোতে পাকিস্তানের বোলিং এগিয়ে থাকবে। বিশেষ করে রহস্য স্পিনার উসমান তারিককে মোকাবিলা করতে বেশ সমস্যায় পড়তে পারেন তারা। এই স্টেডিয়ামে স্পিন খেলায় বিশেষজ্ঞ ভারতীয়রাই তারিককে খেলতে সমস্যায় পড়েছিলেন। এ ছাড়া লেগস্পিনার আবরার আহমেদ, বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ নওয়াজ, অফস্পিনার সাইম আইয়ুব ছন্দে আছেন। প্রয়োজনে শাদাব খানও হাত ঘোরাতে পারবেন। ভারতের বিপক্ষে এই মাঠে পাকিস্তান মাত্র ২ ওভার পেস বোলিং করিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আজও তেমন কিছু দেখা যেতে পারে।
পাকিস্তানের সমস্যা আসলে ব্যাটিং। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ছাড়া আর কেউ প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না। অন্য ওপেনার সাইম আইয়ুব তো প্রতিভার স্ফুরণ এখনও ঘটাতে পারেননি। ইদানীং অনেকে কৌতুক করে তাকে স্পিনিং অলরাউন্ডারও বলা শুরু করেছেন। শুরুতে সাইম আইয়ুব দ্রুত আউট হয়ে যাচ্ছেন বলে আগেভাগে ব্যাটিংয়ে নামতে হচ্ছে অধিনায়ক সালমান আগাকে। তিন নম্বরে তিনিও প্রত্যাশা মেটাতে পারছেন না। আর চারে ব্যাটিং করতে নামা বাবর আজমকে নিয়ে তো আলোচনা চলছে সবচেয়ে বেশি। অনেকের মতে, তিনি নাকি টেস্টের মতো ব্যাটিং করেন। এই সমালোচনার কারণেই হয়তো শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে চার নম্বরে খাজা নাফেকে পাঠানো হয়। অথচ টি২০ ম্যাচে পাকিস্তানের সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটার ফখর জামান বাইরে বসে আছেন। একটি ম্যাচেও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। ব্যাটারদের ব্যর্থতার কারণে অলরাউন্ডারদের ওপর চাপ পড়ছে প্রায় প্রতি ম্যাচে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাটিং ক্লিক না করলে সমস্যায় পড়বে পাকিস্তান।
নিউজিল্যান্ডের অবশ্য ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা নেই। তাদের দুই ওপেনার টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন দারুণ ছন্দে আছেন। গত ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে এ দুজন ব্যর্থ হলে দাঁড়িয়ে যান রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস। এ ছাড়া মার্ক চ্যাপম্যান, ড্যারেল মিচেলও ফর্মে আছেন। গত চার ম্যাচে মাত্র ১৪ উইকেট পড়েছে তাদের। মিচেল স্যান্টনার ফেরায় কিউইদের ব্যাটিং গভীরতা বেড়েছে। তাই আজকের লড়াইটা হবে মূলত পাকিস্তানের বোলিংয়ের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটারদের। স্পিনবান্ধব উইকেট ও মাঠ আয়তনে কিছুটা বড় হওয়ায় প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বেশি বেশি ছয় মারার চেষ্টা করলে বিপদ বাড়তে পারে।
মুখোমুখি লড়াইয়েও দুই দল প্রায় সমানে সমানে এগিয়ে চলেছে। টি২০ ম্যাচে এখন পর্যন্ত তারা মোট ৪৯ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান ২৪ বার ও নিউজিল্যান্ড ২৩ বার জিতেছে। দুটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত চার বছরে টি২০তে ২৪ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। যেখানে কিউইদের জয় ১৩টি, আর পাকিস্তান জিতেছে ৯ ম্যাচ।