বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি:সংগৃহীত
কলম্বোর প্রেমাদাসায় একটা ঐতিহ্য আছে। শ্রীলঙ্কার খেলা থাকলে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাদের বিখ্যাত ‘পাপারে ব্যান্ড' গ্যালারি মাতিয়ে রাখে। গতকালও এর ব্যতিক্রম ছিল না, তবে এদিন লঙ্কান দর্শকদের সঙ্গে ব্যান্ডের সেই সুরে শেষ পর্যন্ত নেচে গেছে জিম্বাবুয়ের ‘ক্যাসল কর্নার' ফ্যানগ্রুপ। এবার তারা গান বেঁধেছে তাদের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে নিয়ে।
মূলত জিম্বাবুয়ের জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ডায়নামোস এফসির একটি গানের সুরেই ‘রাজা...রাজা... গেয়ে যাচ্ছেন জিম্বাবুয়ে থেকে কলম্বোতে আসা কিছু সমর্থক। যে গানের অর্থ অনেকটা এমন— ‘রাজা তুমি আমাদের নায়ক, তুমিই ত্রাতা'। সত্যিই এদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সুপার হিরো হয়েই ধরা দিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক রাজা। ব্যাটিংয়ে ২৬ বলে ২৫ রান, বোলিংয়ে উইকেট না পেলেও খরচ ৩৬ রানের।
শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ৪ উইকেটে ১৮২ রান করে ম্যাচ জিতে নেয়। অস্ট্রেলিয়ার পর শ্রীলঙ্কা— পর পর দুই হেভিওয়েট দলকে হারানোর পর এই মুহূর্তে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে তারাই সবার ওপরে। অঘটন নয়, রীতিমতো দাপটের সঙ্গে লঙ্কাকে হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে। যে দলটি নামিবিয়া আর উগান্ডার কাছে বাছাই পর্বে হেরে গেল বিশ্বকাপেই আসতে পারেনি। সেই জিম্বাবুয়ে এবার উগান্ডা, বতসোয়ানা, তানজানিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলে কেনিয়ার বিপক্ষে পরীক্ষা দিয়ে তবেই বিশ্বকাপে এসেছে।
সিকান্দার রাজার এই জিম্বাবুয়ে অনেক বেশি গোছালো, অনেক বেশি পরিণত। সুপার এইটে উঠে যাওয়ার পর এদিনের ম্যাচটি ছিল দুই দলের কাছেই ‘সম্মান' রক্ষার। অপরাজিত থেকে সুপার এইটে যাওয়ার। সেখানে টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং বেছে নেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান পাথুম নিশাঙ্কা এদিন ৬২ রানের ইনিংস খেলেন দেড়শর ওপর স্ট্রাইকরেটে। আরেক ওপেনার কুশল পেরেরা ২২ রান করেন। পাভান রত্নানায়েক খেলেন ৪৪ রানের ইনিংস। ১২ ওভারে ১০০ রান তুলে নেয় স্বাগতিকরা। কিন্তু পরের ৫০ রান তুলতে ৩৮ বল খরচ করতে হয় লঙ্কানদের।
ঠিক এখানেই ম্যাচে ফিরে আসে জিম্বাবুয়ে। তাদের দীর্ঘকায় পেসার ব্লেসিং মুজারবানি ৩৮ রান খরচে তুলে নেন দুটি উইকেট। লেগ স্পিনার গ্রায়েম ক্রেমার, যাঁকে কিনা অবসর ভাঙিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে শুধু এই বিশ্বকাপের জন্য। সেই তিনি মাত্র ২৭ রানে দুই উইকেট শিকার করেন। সিকান্দার রাজার অফ স্পিনে অস্বস্তি বোধ করতে থাকেন লঙ্কান ব্যাটাররা।
এবারের আসরে জিম্বাবুয়ে দলের অন্যতম শক্তি এই ভারসাম্যতা। দারুণ ছন্দে আছেন দুই পেসার মুজারবানি আর এনগারাভা। স্পিনে রাজার রহস্যময় বোলিং। সেই সঙ্গে পুরো দলের ফিল্ডিংও নজরকাড়া। এর বাইরে ব্যাটিংয়ে তরুণ ওপেনার ব্রায়ান বেনেট আর তাদিয়ানসে মারুমানি ৬৯ রানের ওপেনিং জুটি গড়েছেন। মারুমানি ৩৪ রানে আউট হয়ে গেলেও ব্রেনেট ৬৩ রানের ইনিংস খেলে যান। ১২ ওভারে জিম্বাবুয়ের রান যখন একশর কাছাকাছি, তখন আউট হন ব্রায়ান বার্ল। কিন্তু যাওয়ার আগে মাত্র ১২ বলে ২৩ রান তুলে যান।
ঠিক এখানেই এসে শুরু করেন সিকান্দার রাজা। লঙ্কান স্পিনার হেমন্ত আর ওয়ালেগালেকে একের পর এক বাউন্ডারি ছাড়া করতে থাকেন। চার নম্বর ব্যাটিংয়ে নেমে চার ছক্কা আর দুই চারে ১৭৩ স্ট্রাইকরেটে ঝড় তুলতে থাকেন তিনি। রাজা আউট হওয়ার পর ১০ বলে ১২ রান দরকার ছিল জিম্বাবুয়ের। ঠিক এ সময় মুশিকিউয়ার উইকেট হারিয়ে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ৮ রানের। কিন্তু এই জিম্বাবুয়ে সেই জিম্বাবুয়ে নয়— তাই মুনউঙ্গার মতো ব্যাটার এসেই থিকসানাকে ছক্কা ছাড়া করেন। অসহায় দেখায় লঙ্কান অধিনায়ক শানাকাকে। আসলে এবারের আসরে দলের দুই মূল বোলার হাসারাঙ্গা আর পাথিরানাকে হারিয়ে লঙ্কান দলের যেন ডানাছাটা অবস্থা। সুপার এইটের আগে এই হার তাদের নিশ্চিতভাবেই চিন্তায় ফেলবে।