বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি:সংগৃহীত
বেনফিকার ডাগআউটে হোসে মরিনহো আছেন বলেই উত্তাপটা টের পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার পর্তুগালের লিসবনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফে বেনফিকা আর রিয়াল মাদ্রিদের লড়াইয়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের কারণে লাল কার্ড দেখেছেন মরিনহো। প্রথম লেগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অসাধারণ গোলে বেনফিকাকে ১-০ গোলে হারায় রিয়াল। কিন্তু মরিনহোর লাল কার্ড আর লস ব্লাঙ্কোসদের জয় ছাপিয়ে আলোচনায় বর্ণবাদী মন্তব্য। ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে।
গত মাসের শেষের দিকে এই মাঠেই বেনফিকার কাছে ৪-২ গোলের পরাজয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি নকআউটে খেলার আশা শেষ হয়ে যায় রিয়ালের। তাই প্লে-অফের প্রথম লেগে ম্যাচটির দিকে চোখ ছিল সবার। ম্যাচের প্রথমার্ধে হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে বিরতির পরই ঘটেছে অনাকাঙ্ক্ষিত যত ঘটনা। বিশেষ করে ম্যাচের ৫০ মিনিটে গোল করার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র কর্নার স্ট্যান্ডের কাছে গিয়ে নেচে উদযাপন করেন। উদযাপনটি আপত্তিকর মনে রেখে রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের হলুদ কার্ড দেখান ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে।
সেই সময় বেনফিকার আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয় ভিনিসিয়ুসের। বাগ্বিতণ্ডার পর দৌড়ে রেফারির দিকে ছুটে যান ভিনিসিয়ুস এবং কিলিয়ান এমবাপ্পে। বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সঙ্গে সঙ্গে বর্ণবাদবিরোধী নিয়ম প্রয়োগ করে ইশারায় ‘টাইমড আউট’ দেন রেফারি। সাইডলাইনে ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি, বেনফিকা কোচ হোস মরিনহোকে দেখা যায় ডাগআউটে গিয়ে ভিনিসিয়ুস-এমবাপ্পেদের সঙ্গে কথা বলতে। প্রায় ১০ মিনিটের মতো বন্ধ থাকার পর পুনরায় খেলা শুরু হয়। ভিনিসিয়ুস ও এমবাপ্পে বল ধরলেই দুয়ো দেন স্থানীয় সমর্থকরা।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে খেলা শেষ হলেও তার রেশ রয়ে যায়। ঘটনার সময়ের টিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখ দিয়ে জার্সি ঢেকে ভিনিসিয়ুসকে কিছু একটা বলছেন প্রেস্তিয়ান্নি। তাঁর সেই কথা শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন ভিনিসিয়ুস এবং তাঁর সতীর্থরা। ফুটেজে দেখে মনে হয়েছে, বেনফিকার আর্জেন্টিনার উইঙ্গারকে মুখের ওপর ‘ব্লাডি রেসিস্ট’ বলছেন এমবাপ্পে। ফরাসি ফরোয়ার্ডের দাবি, প্রেস্তিয়ান্নি জার্সিতে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসকে পাঁচবার ‘ভিনি একটা বানর’ বলেছেন, ‘বেনফিকার ২৫ নম্বর, তার নামও মুখে আনতে চাই না, কারণ এটা তা প্রাপ্য নয়। সে জার্সিতে মুখ ঢেকে পাঁচবার বলেছে, ‘ভিনি একটা বানর’, আমি শুনেছি এটা।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেনফিকা ফরোয়ার্ড প্রেস্তিয়ান্নি, ‘আমি পরিষ্কার করে দিতে চাই যে, ভিনি জুনিয়রকে কখনোই আমি বর্ণবাদী অপমানসূচক কিছু বলিনি, দুঃখজনকভাবে সে যা শুনেছে, তা ভুল বুঝেছে। খারাপ লাগছে যে, রিয়াল মাদ্রিদের ফুটবলারদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছি।’
এবারই প্রথম বর্ণবাদী আচরণের শিকার হননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বছরের পর বছর ধরেই স্পেনের বিভিন্ন মাঠে বর্ণবাদী মন্তব্য ও আচরণের শিকার হওয়ার নানা অভিযোগ করে আসছেন তিনি। কেবল ২০২২ সালেই তাঁকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে ১৮টি আইনি অভিযোগ করা হয়। সর্বশেষ গত মাসে দ্বিতীয় বিভাগের দল আলবাসেতের মাঠে কোপা দেল রের ম্যাচে বর্ণবাদের শিকার হতে হয় তাঁকে। তবে বেনফিকা উইঙ্গারের বর্ণবাদী মন্তব্যটি মেনে নিতে পারছেন না তিনি, ‘বর্ণবাদীরা সর্বোপরি কাপুরুষ। দুর্বলতা দেখানোর জন্য মুখ শার্ট দিয়ে ঢেকে রাখা প্রয়োজন হয় তাদের। কিন্তু তাদের সুরক্ষা দেয় অন্যরা, তাত্ত্বিকভাবে আসলে যাদের দায়িত্ব শাস্তি দেওয়ার। আজ যা ঘটেছে, আমার জীবনে বা আমার পরিবারের জীবনে এসব নতুন নয়।’