বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

আমিনুল হক
মাঠের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন দলের শেষ ভরসা, গোলপোস্টের অতন্দ্র প্রহরী। রাজনীতিতে নামার পর রাজপথের লড়াইয়েও ছিলেন সামনের সারিতে। এবার সেই ত্যাগ ও নিষ্ঠার স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে হারলেও টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির এই নেতা।
মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আমিনুল হক। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে অনেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রীত্ব পেলেও, টেকনোক্র্যাট কোটায় (সংসদ সদস্য না হয়েও মন্ত্রী) কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদের মন্ত্রী হওয়ার নজির এটিই প্রথম। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং আরিফ খান জয়ের পর তৃতীয় সাবেক ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাঁধে নিলেন তিনি।
নির্বাচনে আমিনুল হক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়লেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন। তবে সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রীসভার মোট সদস্যের ১০ শতাংশ টেকনোক্র্যাট হতে পারেন। সাধারণত দলের প্রতি ত্যাগ, বিশেষ দক্ষতা ও অপরিহার্যতা বিবেচনায় এই কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়। আমিনুল হকের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ক্রীড়াঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতাই তাকে এই পদে আসীন করেছে।
নব্বইয়ের দশকে ফরাশগঞ্জ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা আমিনুল আবাহনী, মোহামেডান ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের হয়ে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশের সাফ জয়ে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। এছাড়া ২০১০ এসএ গেমসে জাতীয় দলের নেতৃত্ব দেন এই তারকা গোলরক্ষক। পেনাল্টি ঠেকানো কিংবা নিশ্চিত গোল বাঁচানোয় তার জুড়ি ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত ফুটবলারও ছিলেন তিনি।
ফুটবল থেকে অবসরের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন আমিনুল। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে দলের দুঃসময়ে তার ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবেই ক্রীড়াঙ্গন তাকে এই পদে দেখতে চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হলো।
ক্রীড়াঙ্গন থেকে এর আগে সাদেক হোসেন খোকা, হারুনুর রশিদ, সালাম মুর্শেদী, মাশরাফি বিন মর্তুজা, নাজমুল হাসান পাপন ও সাকিব আল হাসানের মতো অনেকেই সংসদে গিয়েছেন। কিন্তু সংসদ সদস্য না হয়েও সরাসরি মন্ত্রীত্ব পাওয়ার রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন আমিনুল হক।