বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি: সংগৃহীত
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বয়কট করার কারণ ব্যাখ্যা করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের পেছেন 'ফোর্স মেজার' বা 'অনিবার্য পরিস্থিতি'র আইনি ঢাল ব্যবহার করেছে পিসিবি। 'ফোর্স মেজার' এমন একটি শক্তিশালী বিধান, যা কোনো পক্ষকে তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কারণে দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারত ম্যাচ বয়কটের পেছনে সরাসরি সরকারের নির্দেশকে কারণ হিসেবে দেখিয়েছে এবং যুক্তি দিয়েছে পিসিবি।
'ফোর্স মেজার' কী
সাধারণত যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মতো চরম পরিস্থিতির ক্ষেত্রে 'ফোর্স মেজার' ধারাটি ব্যবহার করা হয়। তবে আইসিসির নিয়মাবলীতে সরকারি নির্দেশনাকেও এই ধারার অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ আছে। আর এই কারণেই কাগজে-কলমে পিসিবিকে আইনি সুরক্ষা দিচ্ছে।

পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানিয়েছিল, পাকিস্তান দল এবারের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। পরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন এবং টুর্নামেন্ট থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার প্রতিবাদে তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এই কঠোর অবস্থান বেছে নেন।
পাল্টা অবস্থানে আইসিসি
পিসিবি 'ফোর্স মেজার' নিয়ে যে যুক্তি দিয়েছে তাতে সায় দিচ্ছেন না আইসিসি। এক লিখিত চিঠিতে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পিসিবির কাছে জানতে চেয়েছে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বা এই সংকট এড়াতে বোর্ড আসলে কী পদক্ষেপ নিয়েছিল— যা সংস্থাটির মেম্বারস পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট (এমপিএ) অনুযায়ী বাধ্যতামূলক।
এছাড়া আইসিসি পিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, ঠিক কোন কোন শর্ত পূরণ হলে ফোর্স মেজার কার্যকর হতে পারে। একইসঙ্গে ম্যাচ বয়কটের ফলে ক্রিকেটের ওপর যে বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, সে বিষয়েও পিসিবিকে সতর্ক করেছে তারা।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মাঠে না গড়ালে পিসিবির কাছে বড় অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, সেই বিষয়টিও পিসিবিকে মনে করিয়ে দিয়েছে আইসিসি। এমনকি গুরুতর নিয়মভঙ্গের দায়ে পাকিস্তানের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের মতো কঠিন সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে আইসিসি।
পুরোনো ঘটনা সামনে আত্মবিশ্বাসী পিসিবি
আইসিসির এমন হুমকিতেও বেশ আত্মবিশ্বাসী পিসিবি। পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বাস করে তাদের আইনি অবস্থান বেশ মজবুত। পিসিবির কর্মকর্তারা ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে অতীতের একটি বিরোধের কথা উল্লেখ করছেন, যা আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
সেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৪ সালের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) রক্ষায় ভারতের ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে। তখন ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার অনুমতি না থাকাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল বিসিসিআই। পিসিবি মনে করছে, সেই পুরনো নজিরটি বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।