বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করেছে বিএনপি। শনিবার (৭ নভেম্বর) নয়াপল্টনে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সমাবেশ শেষে তার নেতৃত্বে শোভাযাত্রা শুরু হয়।
শোভাযাত্রাকে ঘিরে সকাল থেকেই নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন বিএনপি এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসেন তারা।
নেতাকর্মীদের হাতে ছিল দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন। শ্রমিক দল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের অংশগ্রহণে পল্টন এলাকা মুখর হয়ে ওঠে দলীয় স্লোগানে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উপস্থিতি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকাতেও নেতাকর্মীদের ভিড় দেখা যায়।
শোভাযাত্রা পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার অভূতপূর্ব বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের রাজনীতির সংকটময় গতিধারা পরিবর্তিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন এবং পরবর্তীকালে জাতিকে সঠিক নির্দেশনা দিয়ে দেশে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন। সেই সুসংহত জাতীয় ঐক্যের ধারা বজায় রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ रहनेর আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নয়াপল্টন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করে। মিছিলটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের মোড়, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। পথজুড়ে উৎসুক জনতার ঢল এবং নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল অংশগ্রহণ শোভাযাত্রায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
এর আগে দিনের সূচনাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সকালে সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের পর তিনি রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এরপর দুপুরে তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রামপুলিশের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বস্ত্রীক যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। ঐতিহাসিক এই দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, ঘোষিত সাত দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির বারতা পৌঁছে দেওয়া হবে।

শোভাযাত্রায় ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজনও। ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচটি ঘোড়ার গাড়ি ও একটি হাতি নিয়ে মিছিল আসে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন শোভাযাত্রায় উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন এলাকায় দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।