বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বক্তব্য দিচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
গণভোটের গণরায় অস্বীকার করে সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় কার্যকর ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করাসহ ৭ দফা দাবি মেনে না নিলে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর যশোরের মুড়লীর মোড়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়ামুখী লংমার্চের এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আলটিমেটাম দেন।
যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ পথসভায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিরোধী দল সংসদে আলোচনা ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য থেকেই জনগণের দাবির শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। কিন্তু সরকার যদি জনগণের এ সুস্পষ্ট রায়কে ক্রমাগত অবহেলা ও তামাশা করতে থাকে, তবে চলমান সাত দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় রূপান্তরিত হবে। তিনি ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বলেন, ‘এক দফার ওজন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি অতীতে সহ্য করতে পারেনি, বর্তমান সরকারও তা পারবে না। যারা পুনরায় ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটার চেষ্টা করবে, তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।’ তিনি অবিলম্বে কালক্ষেপণ না করে বিরোধীদের দাবি মেনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের একপর্যায়ে সরকারি সহায়তা ও কার্ড বিতরণে রাজনৈতিক বৈষম্য ও ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে জানতে চান, তাঁদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ সরকারি কার্ড পেয়েছেন। কোনো হাত না উঠলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সরকারি তহবিল কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, অথচ দলীয়করণের কারণে এ সুবিধা সাধারণ মানুষের ঘরে না পৌঁছে নয়ছয় করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান আন্দোলন কোনো একক দলের নয়, বরং আপামর জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সম্মিলিত আন্দোলন।
পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান এবং মুফতি শরাফত হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মোক্তার আলী, যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এনামুল হক, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ এবং চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনিসহ জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। পথসভা শেষে লংমার্চের গাড়িবহর মণিহার, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি ও চুরামনকাটি হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।