বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
আঞ্চলিক কানেক্টিভিটির অজুহাতে বাংলাদেশকে কোনো বিদেশি শক্তির কাছে ইজারা দেওয়া যাবে না বলে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতে যারা বিদেশের কাছে দাসত্ব স্বীকার করেছিল, তারা আজ ইতিহাসের চরম পরিণতি ভোগ করছে; জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও লুকোচুরি করে বর্তমান সরকারও পার পাবে না। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চার দিনের বিদেশ সফরকে ঘিরে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, সরকারপ্রধান কী উদ্দেশ্যে বিদেশে গিয়েছিলেন এবং কী চুক্তি করে এসেছেন, তা কালবিলম্ব না করে জাতির সামনে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করতে হবে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে নেপথ্যে কোনো লুকোচুরি বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি হচ্ছে কি না, দেশবাসী তা সুনির্দিষ্টভাবে জানতে চায়। তিনি মন্তব্য করেন, অতীত শাসকদের বাইরে ‘দিদি-দাদা’ ছিল, কিন্তু বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করলে দাঁড়ানোর কোনো জায়গা পাবে না।
উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে লংমার্চের আনুষ্ঠানিক গাড়িবহর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। কাফেলাটি মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, রূপসা সেতু পার হয়ে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় পৌঁছাবে। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে মোট ১৯টি জেলা স্পর্শ করবে বহরটি। যাত্রাপথে নাওডোবা, বাগেরহাটের কাটাখালী, খুলনার বাবরি চত্বর ও স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লি মোড় এবং ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশে জামায়াত আমির জানান, বিরোধী দলসমূহ ৭ দফা দাবিতে এই লংমার্চ পরিচালনা করছে, যার মূল ও প্রধান ভিত্তি হলো গণভোটের ঐতিহাসিক জনরায়ের পূর্ণ বাস্তবায়ন। তিনি দাবি করেন, এই মূল রায় বাস্তবায়ন না করার ফলেই বাকি সংকট ও অন্যায়ের জন্ম হয়েছে; জনগণের রায় কার্যকর থাকলে দখলদার, চাঁদাবাজ কিংবা দুর্নীতিবাজরা রাষ্ট্রযন্ত্রে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারত না। বিএনপি জাতির সঙ্গে ঐতিহাসিক প্রতারণা করেছে এবং সংসদে দাঁড়িয়ে অসত্য বক্তব্য দিয়ে গণরায়কে উপহাস করেছে বলে অভিযোগ এনে তিনি আগামী ৯ নভেম্বর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ অভিযোগ করেন, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে দলীয় কার্যালয়ে পরিণত করে টেন্ডারবাজি ও ভূমি দখলের মহোৎসব চালানো হচ্ছে, যার দায় শেষপর্যন্ত সরকারপ্রধানের ওপরই বর্তাবে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার না করা এবং জনগণের রায়কে অসম্মান করাই বর্তমান রাষ্ট্রীয় সংকটের মূল কারণ। এছাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদ অমান্য করে সরকার সাংবিধানিক পদগুলো দলীয়করণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে এবং জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে জনগণ সরকারকে লাল কার্ড প্রদর্শন করবে। সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম এবং ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)।