বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান
আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা বা পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা ব্যক্তিগতভাবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার নিশ্চিত না করে পুনর্মিলনের আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার ও অনুতাপ প্রকাশের পরিবর্তে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচনায় এসেছিল। তবে এ ধরনের উদ্যোগের আগে গুরুতর অপরাধের বিচার হওয়া প্রয়োজন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচার নিশ্চিত না করে পুনর্মিলনের আলোচনা করা যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উপদেষ্টার অভিযোগ, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অতীতের অপরাধের জন্য অনুতাপ প্রকাশ বা দায় স্বীকারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত দুই বছরে দলটির আচরণ পুনর্মিলনের সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি দায় স্বীকার ও ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নিত, তাহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারত। তবে দায় স্বীকার করলেই পুনর্মিলন শুরু হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে পুনর্মিলনের আলোচনা করা সম্ভব কি না সেটি বিবেচনার বিষয় হবে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, দলটির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে কি না, সে বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার ও শাস্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি প্রতিশোধের বিষয় নয়; বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অংশ।
শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে সরকারের অনুরোধ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পাঠিয়ে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়ও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়।
তবে অনুরোধ জানানো হলেই ভারত তাঁকে ফেরত পাঠাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানসহ আরও কিছু বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
গণমাধ্যমে জুলাই আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ধরন সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনা সরকারের নজরদারিতে রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ হিসেবে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়।
তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে কেউ আইনের সীমা লঙ্ঘন করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন।
অপসাংবাদিকতা মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান প্রেস কাউন্সিলের কার্যকর ভূমিকা পালনের সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির আইন পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে সংবাদমাধ্যমের অনিয়ম মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
পুলিশ বাহিনীর বর্তমান সক্ষমতা ও মনোবল প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল তাতে বাহিনীটির প্রতি জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়। এর প্রভাব পুলিশের আত্মবিশ্বাস ও মনোবলেও পড়েছে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও পুলিশের মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের সংকট ছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং পুলিশ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে।
উপদেষ্টার মতে, রাষ্ট্রের প্রত্যাশিত পর্যায়ে পুলিশের সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস এখনো পুরোপুরি পৌঁছায়নি। গণতান্ত্রিক সরকারের বৈধ নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। এ জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।