বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত প্রার্থীদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে নতুন করে প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দিন। ঢাকা দক্ষিণে দলটির প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির নতুন সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে শিগগির সংবাদ সম্মেলন করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
গত ২৯ মার্চ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল এনসিপি। ওই তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উত্তরে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের প্রার্থী হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে দলের রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদকে উত্তর এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণ সিটিতে করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় ঢাকার দুই সিটিতে আলাদা কৌশলে এগোচ্ছে এনসিপি। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীদের বিবেচনায় রেখে রাজধানীতে পরিচিতি ও জনসমর্থন রয়েছে এমন নেতাদের সামনে আনার পরিকল্পনা করছে দলটি।
এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের কয়েকজন সদস্যের ভাষ্য, গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহর এলাকায় দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও জনসমর্থন তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে রাজধানীতে এই সমর্থন কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছে দলটি।
প্রার্থী পরিবর্তনের পরিকল্পনার পাশাপাশি আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা স্থানান্তরের বিষয়টিও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণ থেকে ঢাকা উত্তরের আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উত্তরা এলাকা থেকে ঢাকা দক্ষিণের শাহবাগ এলাকার ভোটার হয়েছেন।
গত সোমবার এনসিপির গণমাধ্যমবিষয়ক উপকমিটি দুই নেতার ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। এর আগে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উত্তরা এলাকার ভোটার ছিলেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই ও নথিপত্র পর্যালোচনার পর কমিশন আবেদন অনুমোদন করে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন এনসিপির মেয়র প্রার্থী ও জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা থেকে স্থানান্তর হয়ে সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন। দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে তিনিই এনসিপির প্রার্থী থাকছেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা ও ভোটার এলাকার বিষয়টি নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। প্রয়োজন হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন করা যায়।
ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াত ও এনসিপির পৃথক প্রার্থী থাকলে ভোটের হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দলের প্রার্থীরা একই ধরনের ভোটারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করলে ভোট বিভক্ত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ঢাকা উত্তরে জামায়াতের সেলিম উদ্দিনের বিপরীতে এনসিপির আসিফ মাহমুদ এবং দক্ষিণে সাদিক কায়েমের বিপরীতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দুই সিটিতেই নির্বাচনী হিসাব নতুন রূপ নিতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা, অন্যান্য দলের অংশগ্রহণ, নির্বাচনী প্রচার এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।
জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে সমঝোতা না হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন দল দুটির পৃথক রাজনৈতিক কৌশল ও জনসমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।