বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
বিচার বিভাগে সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপের কারণেই বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান চরম অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের সুনির্দিষ্ট সবুজ সংকেত ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া অসম্ভব। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার রাজনৈতিক আক্রোশ থেকেই তাঁকে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিমানবন্দরের সার্বিক বিশৃঙ্খলা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রলির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এবং লাগেজ পেতে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আখতারুজ্জামান কেবল এই অব্যবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কৈফিয়ত চেয়েছিলেন। অথচ এর জেরে তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামিনযোগ্য ধারার মামলা হওয়া সত্ত্বেও বিচার বিভাগ সরকারের চাপে তাঁর জামিন নামঞ্জুর করেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে গণমাধ্যমের সামনে পুরো ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং অসত্য বক্তব্য দিয়ে সাংবিধানিক শপথ ভঙ্গ করেছেন। মন্ত্রী সৎ হলে কর্তব্যকাজে গাফিলতি করা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন বা তাদের প্রত্যাহার করতেন। কিন্তু উল্টো যে কর্মকর্তা নিজের ব্যর্থতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, তাঁকে বাধ্য করে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করানো হয়েছে। একজন জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হাতকড়া, হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে আদালতে হাজির করার ঘটনাকে চরম অবমাননাকর আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
আখতারুজ্জামানকে প্রাপ্য প্রথম শ্রেণির কারাবন্দির মর্যাদা (ডিভিশন) না দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর রাষ্ট্রীয় গেজেট আদালতে পেশ করার পরও তাঁকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। ৭৫ বছর বয়সী একজন অসুস্থ বর্ষীয়ান মানুষের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করার পেছনে সরকারি গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপির আইনজীবীরা মব তৈরি করে আখতারুজ্জামানের আইনজীবী, দেখতে আসা স্বজন ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে আদালত চত্বর দখল ও ভিন্নমতের ওপর তাণ্ডব চালানো হতো, বর্তমানে আদালত অঙ্গনে তারই হুবহু পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে; আচরণের দিক থেকে অতীত ফ্যাসিবাদ আর বর্তমান বিএনপির ক্যাডারদের মধ্যে কোনো গুণগত পার্থক্য নেই।
গোলাম পরওয়ার সতর্ক করে বলেন, এই অন্যায্য গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা ক্ষোভে ফুঁসছেন। অবিলম্বে আখতারুজ্জামানকে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স শাটডাউনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত।