বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান -ছবি : সংগৃহীত
দু-একটি অঘটনের কারণে পুরো আলেম সমাজ ও মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে আলেম সমাজ ও মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আত্মপর্যালোচনা এবং আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবনে আয়োজিত জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরিন এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা নুরুল আমিন।
ধর্মীয় বিষয়ে মানুষকে আহ্বান জানানোর আগে নিজের আমল ও বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখার ওপর গুরুত্ব দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, আল্লাহর কালামের দিকে মানুষকে ডাকা কিংবা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আমলের দিকে আহ্বান জানানোর আগে প্রত্যেকের আত্মপর্যালোচনা করা প্রয়োজন। নিজের আমলের সঙ্গে সামঞ্জস্য নেই—এমন কোনো কথা বলা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আগে নিজে আমল করতে হবে, এরপর অন্যকে সেই পথে আহ্বান করার অধিকার আসে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাদরাসা ও আলেম সমাজের বিভিন্ন দুর্বলতার প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, দেশে কওমি ও আলিয়া—দুই ধরনের মাদরাসা রয়েছে। পাশাপাশি খানকা, মারকাজসহ ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব জায়গায় কোনো দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তবে তিনি বলেন, দু-একটি অঘটনের কারণে পুরো ওলামা সমাজ ও মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘সাদা কাপড়ে দাগ’ এর উদাহরণ দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাদা কাপড়ে সামান্য দাগও সহজে চোখে পড়ে। তাই আলেম সমাজের দায়িত্ব ও অবস্থানের কারণে তাদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।
মাদরাসার কোনো দুর্বলতার প্রসঙ্গে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের উদাহরণ টেনে তা আড়াল না করার আহ্বানও জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মাদরাসায় কোনো ত্রুটি থাকলে ‘কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও বেশি আছে’ এমন যুক্তি দিয়ে তুলনা করা ঠিক হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামের নামে পরিচালিত না হলেও মাদরাসার মূল ধারণা ইসলামকে কেন্দ্র করে। তাই মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও সতর্কতার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মাদরাসার আদর্শ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মদিনার মসজিদে নববীর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মাদরাসার তুলনা সাধারণ স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে না করে মদিনার মসজিদে নববীর মাদরাসার সঙ্গে করা উচিত। তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কে সেই মাদরাসার শিক্ষক এবং সাহাবিদের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সম্মেলনে ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক দুই পর্যায়েই আত্মপর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, একজন আলেমকে যেমন নিজের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে তেমনি মাদরাসা, খানকা, মারকাজ, আলিয়া ও কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নিতে হবে।
শফিকুর রহমানের বক্তব্যে একদিকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনার দায় পুরো আলেম সমাজ বা মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর না চাপানোর আহ্বান উঠে এসেছে অন্যদিকে আলেম ও মাদরাসা সংশ্লিষ্টদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আরও সতর্ক, আত্মসমালোচনামূলক ও জবাবদিহিমূলক হওয়ার বার্তাও রয়েছে।