বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
আজ বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে ফুটপাত উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ভ্রাম্যমাণ হকার ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উদ্ভুত এই পরিস্থিতির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক তাৎপর্যপূর্ণ নীতিগত বিবৃতি প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, নগরবাসীর স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন চলাচলের স্বার্থে প্রধান সড়ক ও ফুটপাত অবশ্যই দখলমুক্ত রাখতে হবে। তবে এর পাশাপাশি হকারদের জন্য সুনির্দিষ্ট বিকল্প স্থান নির্ধারণ ও টেকসই পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের ওপর চরম অবিচার ডেকে আনে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে হকাররা কোনো ভিনদেশি নাগরিক বা সমাজের বাইরের কেউ নন। তাঁরা এ দেশেরই হতদরিদ্র, প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ, যারা দিন এনে দিন খেয়ে পরিবার-পরিজনের অন্ন সংস্থান করেন। হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যখন কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না, তখন পেটের তাগিদে ফুটপাতে ক্ষুদ্র ব্যবসা করা মানুষদের ওপর বলপ্রয়োগ কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত হতে পারে না। জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, ফুটপাতে চাঁদাবাজির নেপথ্যে একটি অত্যন্ত প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় থাকে, যারা প্রতিদিন নিরীহ হকারদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তোলে; অথচ উচ্ছেদ অভিযানে কেবল সাধারণ হকারদের পণ্য নষ্ট হয়, কিন্তু নেপথ্যের গডফাদাররা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালার প্রস্তাব করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশনগুলোকে অবিলম্বে প্রকৃত হকারদের একটি নির্ভুল বায়োমেট্রিক তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। প্রধান প্রধান সড়কগুলো সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত রেখে শহরের অপ্রধান সড়ক বা ফাঁকা জায়গাগুলোতে নির্দিষ্ট সময়ে 'হলিডে মার্কেট' বা 'ইভিনিং বাজার' চালু করার মাধ্যমে হকারদের জীবিকা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাণিজ্যিক এলাকায় বহুতল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পুনর্বাসন প্লাজা নির্মাণ করে সহজ কিস্তিতে দোকান বরাদ্দের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া জরুরি। এর ফলে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে, সিটি করপোরেশন রাজস্ব পাবে এবং শহরের পথচারীরাও স্বাচ্ছন্দ্যে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে পারবেন।
জামায়াত আমিরের এই ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক বক্তব্য নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ হকার সংগঠনগুলোর মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। হকার্স ফেডারেশনের নেতারা জানিয়েছেন, তারা কোনো অবস্থাতেই প্রধান সড়ক দখল করে যানজট তৈরি করতে চান না, কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য তাদের ন্যূনতম জায়গা প্রয়োজন। সরকার যদি নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে বসার আইনি অনুমোদন দেয়, তবে তারা স্বেচ্ছায় প্রধান ফুটপাত ছেড়ে দিতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন হকার নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকক ও কুয়ালালামপুরের মতো জনবহুল এশীয় শহরগুলোতে নির্দিষ্ট স্ট্রিট-ভেন্ডিং জোনিং করে ফুটপাত শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়েছে; ঢাকাকেও একই আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক নগর ব্যবস্থাপনার দিকে হাঁটতে হবে।
সংঘাত পরিহার করে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নগর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নাগরিকদের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা যেমন অপরিহার্য, তেমনি ফুটপাতের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করা লাখ লাখ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়াও মানবিক দায়িত্ব।" প্রশাসনের প্রতি সরাসরি কার্যকর পদক্ষেপের অনুরোধ জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "বলপ্রয়োগ করে কোনো স্থায়ী সমাধান আসবে না; সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হকার প্রতিনিধিদের সাথে টেবিলে বসে যৌক্তিক ও কার্যকর বিকল্প বের করতে হবে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।" সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, মিরপুরের ঘটনার পর উদ্ভুত পরিস্থিতি পর্যালোচনায় কাল সকালে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। নগর প্রশাসন জানিয়েছে, ফুটপাতে চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের তালিকাভুক্ত করার কাজ শীঘ্রই শুরু হবে।