বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র অনেকটাই স্পষ্ট হচ্ছে। তিন রাজনৈতিক শক্তিই ভিন্ন ধরনের প্রার্থী সামনে রাখায় এবার ভোটের মাঠে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এনসিপি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দুই সিটিতে তাদের পছন্দের প্রার্থী অনেকটাই নির্ধারিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় বিএনপি ও জামায়াত সরাসরি দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেবে না। বরং পছন্দের ব্যক্তিকে সমর্থন দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তারা। ফলে ব্যালটে দলীয় প্রতীক না থাকলেও বড় দুই দলের সমর্থন ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিএনপি ঢাকা উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণে মো. আবদুস সালামকে সমর্থন দিতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রজ্ঞাপনে দুজনকেই সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক করা হয়েছিল।
দলীয় সূত্র বলছে, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ফলে নাগরিক সেবা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে তারা ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিচিতি বাড়াচ্ছেন।
ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম জানিয়েছেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর সিটি করপোরেশনের সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি। নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি নির্বাচনের জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
তবে বিএনপির এক দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন, বর্তমানে দুজনের নাম এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জরিপসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের পছন্দও অনেকটা চূড়ান্ত। উত্তরে দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) সমর্থনের কথা জানা গেছে।
সেলিম উদ্দিন এরই মধ্যে উত্তর সিটির বিভিন্ন এলাকায় সাংগঠনিক ও জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন। সাদিক কায়েমও দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। তবে ডাকসুর দায়িত্বে থাকায় তার রাজনৈতিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে সীমিত ও নেপথ্যেই চলছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি করপোরেশন পর্যন্ত প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতেও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে, তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পরে দেওয়া হবে।
অন্য দুই দলের তুলনায় এনসিপি সরাসরি প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করেছে দলটি।
আসিফ মাহমুদের জন্য এটি সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রথম বড় পরীক্ষা। এর আগে তিনি কোনো সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা আব্বাসের বিপরীতে নির্বাচন করে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।
সিটি নির্বাচন সামনে রেখে দুজনই সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার হয়েছেন। আসিফ উত্তর সিটির ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবং পাটওয়ারী দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন।
তিন রাজনৈতিক শক্তির প্রার্থীদের দিকে তাকালে তাদের নির্বাচনী কৌশলের পার্থক্যও স্পষ্ট। বিএনপি প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক পরিচিতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। জামায়াত এগিয়ে রাখছে নগর সংগঠক ও ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখকে। আর এনসিপির পছন্দ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সামনের সারির দুই পরিচিত মুখ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। তবে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থনের জন্য তৃণমূলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্দলীয় ভোটে দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনসম্পৃক্ততা বড় বিষয় হয়ে উঠবে। পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতের সাংগঠনিক সমর্থন ভোটের মাঠে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন তিন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের বড় ক্ষেত্র হতে পারে। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী দলীয় সংগঠন নাকি নতুন রাজনৈতিক পরিচিতি—শেষ পর্যন্ত কোনটি ভোটারদের বেশি আকৃষ্ট করে, তার উত্তর মিলবে নির্বাচনের ফলাফলে।