বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রিটটি আওয়ামী লীগের অনুমোদিত বা দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি করেননি— এমন অভিযোগ তুলে দলপন্থী আইনজীবীরাই এর বিরোধিতা করেন। তাদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আবেদনটি ‘নট প্রেসড’ হিসেবে খারিজ করে দেন।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমি উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নূরুন্নবী বুলবুল। এ সময় শতাধিক দলপন্থি আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা মো. আল আমিনের পক্ষে আইনজীবী ইউনূস আলী রিট আবেদনটি করেন। এতে ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না— সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছিল।
রিটটি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে করা হয়নি এবং আবেদনকারী দলটির কোনো পর্যায়ের নেতা বা কর্মী নন এমন যুক্তিতে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন।
তাদের দাবি, দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা ছাড়াই একজন বহিরাগত ব্যক্তি এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রিট করেছেন। ফলে তার এ মামলা করার আইনগত অধিকার বা ‘লোকাস স্ট্যান্ডি’ রয়েছে কি না তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী নূরুন্নবী বুলবুল বলেন, রিটকারী যথাযথ পরামর্শ না পেয়েই আবেদনটি করেছেন। তিনি জানান, আওয়ামী লীগের কোনো নেতা, কর্মী বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রিটকারীর সম্পৃক্ততা নেই। তাই দলটির প্রতিনিধিত্ব করে এমন কোনো মামলা করার অধিকারও তার নেই।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রিটকারীর আইনজীবী মোহাম্মদ ইউনুস আলীও শুনানির সময় স্বীকার করেন যে, আবেদনকারী সঠিক পরামর্শের ভিত্তিতে রিটটি করেননি। এরপর উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আবেদনটি ‘নট ইন ফর্ম’ এবং ‘নট প্রেসড’ হিসেবে খারিজ করে দেন।
আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী সুবির নন্দি দাস বলেন, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি ও দলীয় নেতৃত্ব রয়েছে। তাদের কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া বাইরে থেকে একজন ব্যক্তিকে দিয়ে কেন এমন মামলা করা হলো, সেটিই তাদের কাছে প্রশ্নের বিষয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের ধারণা, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্টভাবে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ রিট করা হয়ে থাকতে পারে। তার মতে, আবেদনটির মধ্যে নানা ধরনের অসঙ্গতি ও প্রতারণার বিষয় রয়েছে।
সরকারের নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি নিয়ে দলটি আপাতত আদালতের দ্বারস্থ হতে চায় না বলে জানিয়েছেন দলপন্থি আইনজীবীরা।
সুবির নন্দি দাস বলেন, বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক এবং আওয়ামী লীগ এটি রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করবে। এ মুহূর্তে নতুন করে আদালতে রিট করার কোনো সিদ্ধান্ত তাদের নেই।
একই বক্তব্য দিয়েছেন আইনজীবী তৌহিদ তিতাস। তিনি বলেন, বর্তমান রিট দায়েরের বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো দলীয় নির্দেশনা ছিল না। তার দাবি, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে যাতে এ বিষয়ে রিট করা সম্ভব না হয়, সে উদ্দেশ্যেও একজন অনুপযুক্ত ব্যক্তিকে আবেদনকারী করে মামলা করা হয়ে থাকতে পারে।
তৌহিদ তিতাসের ভাষায়, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে তারা রাজনৈতিকভাবে রাজপথে অবস্থান নেবেন। তিনি এটিকে আওয়ামী লীগকে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার একটি ‘বিচারিক ষড়যন্ত্র’ বলেও মন্তব্য করেন।
তবে দলপন্থি আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রিট খারিজের পক্ষে তাদের প্রধান যুক্তি ছিল আবেদনকারী এ ধরনের মামলা করার উপযুক্ত ব্যক্তি নন। এ ছাড়া অন্য কোনো substantive বিষয়ে তারা আদালতে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ নেননি।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ রিটটি চললে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য সময় চেয়েছিল। তবে রিটকারীর পক্ষ থেকেই যখন আবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় করা হয়নি এবং তারা মামলাটি আর চালাতে চান না বলে জানানো হয়, তখন আদালত সেটি ‘উত্থাপিত হয়নি’ মর্মে খারিজ করে দেন।
২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
এর আওতায় দলটির প্রকাশনা, গণমাধ্যমে প্রচার, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলনসহ বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকার কথা জানানো হয়।