বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বেরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ঐক্য বা সমঝোতা থেকে এনসিপির সরে যাওয়ার মতো কোনো বিষয় তাদের কিংবা এনসিপির কারও রাজনৈতিক আলোচ্যসূচিতে (এজেন্ডা) নেই। একই সঙ্গে বিরোধীদলীয় সংসদীয় আসনগুলোর প্রতি সরকারের বৈষম্যমূলক উন্নয়ন বরাদ্দের কড়া সমালোচনা করে শিগগিরই দক্ষ ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের সমন্বয়ে একটি ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ (Shadow Cabinet) গঠনের অগ্রগতির কথা ঘোষণা করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমসাময়িক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন। এ সময় এনসিপি, জামায়াত এবং এদের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঐক্য থেকে এনসিপির সম্ভাব্য প্রস্থান সংক্রান্ত জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে প্রচলিত প্রবাদের উদ্ধৃতি টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন:
"এটা এনসিপিরও কোনো এজেন্ডা না, আমাদেরও এজেন্ডা না। মানে যার বাড়িতে বিয়ে তার কোনো ঠেকা নাই, আর পাড়া–পড়শির ঘুম নাই—বিষয়টা ঠিক তেমনই দাঁড়িয়েছে। আমাদের এই বোঝাপড়া কোনো স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক জোটের বাধ্যবাধকতা নয়; এটি ছিল একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী নির্বাচনী সমঝোতা। বর্তমানে আমরা জনগণের মৌলিক ভোটাধিকার ও নাগরিক অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে যুগপৎভাবে রাজপথের আন্দোলন পরিচালনা করছি।"
অতীতে জোট রাজনীতির বিবর্তন স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, চারদলীয় ঐক্যজোটের পরিধি কালক্রমে ১৮, ২০ এবং একপর্যায়ে ২৭ দলে উন্নীত হয়েছিল। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেকোনো রাজনৈতিক শক্তির নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার বা কৌশল পরিবর্তনের পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে এবং এখানে কারও ওপর কোনো জোর খাটানোর অবকাশ নেই; তবে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এই গণতান্ত্রিক ঐক্যের ভিত্তিকে আরও সুসংহত করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
সরকারের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, নীতিগত জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর বিকল্প প্রস্তাবের লক্ষ্যে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, এ বিষয়ে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে নীতিগত প্রস্তুতি ও প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কেবল জোটের শরিক দলের যোগ্য প্রতিনিধিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত প্রতিভাবান, দেশপ্রেমিক ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের মেধা বা ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ সমন্বয় করে একটি আধুনিক ও কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করা হবে।
বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন:
"সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের এলাকার তুলনায় বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করা হচ্ছে। এমনকি সরকারি দলের দায়িত্বশীল নেতারা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে বলছেন যে, বিরোধী দলকে ভোট দিলে সরকারের কাছ থেকে কোনো উন্নয়ন চাওয়া যাবে না। অথচ সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কোনো দলের অনুকম্পা নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত ও মৌলিক অধিকার। এর পাশাপাশি সংসদীয় রীতি ও সাংবিধানিক রীতিনীতি লঙ্ঘন করে বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের সমান্তরাল দায়িত্ব দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।"
গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের অনীহার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ টেকসই ও কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে সুনির্দিষ্ট গণরায় দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার সেই গণআকাঙ্ক্ষা ও প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ ভুলে গেছে। সরকার সংকট সমাধানের গণতান্ত্রিক পথ পরিহার করায় বিরোধীদের রাজপথে নামা ছাড়া বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, বিদ্যমান কর্তৃত্ববাদী কাঠামোর সামগ্রিক বিলোপ এবং দেশে টেকসই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথের এই যৌথ আন্দোলন অটুট থাকবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও কৃষি সারের তীব্র সংকটসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চরম দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, সংস্কারকামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ এনসিপি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।