বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বিএনপির প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেলেন বিএনপির প্রবীণ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই রাজনীতিক এবার বঙ্গভবনের সম্ভাব্য বাসিন্দা হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এর আগে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পর দলীয় রীতি অনুসরণ করে বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপি সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় দলটির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া এখন অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন মির্জা ফখরুল। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
রাজনীতির শুরুর দিকে বামপন্থী ধারার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাপের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজেও শিক্ষকতা করেন।
১৯৭৯ সালে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। তবে সক্রিয় রাজনীতির প্রতি আগ্রহ থেকে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে পুরোপুরি যুক্ত হন।
১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ১৯৯২ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন। পরে কৃষক দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকারের সময় কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ২০১১ সালে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বিএনপির কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের বিদেশে অবস্থানের সময় তিনি দেশে বিএনপির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন তিনি।
২০১৮ সালে বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও দলীয় সিদ্ধান্তে শপথ না নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিনয়ী, ভদ্র ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তার বক্তব্য ও আচরণ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন। এবার সেই রাজনৈতিক পথচলার পর রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর মনোনয়ন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্যক্তিজীবনে তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা। তাদের দুই মেয়ে রয়েছেন। বড় মেয়ে ড. মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণায় যুক্ত এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।