বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -ছবি : সংগৃহীত
দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও উন্নয়নের পথে আর কোনো বাধা মেনে নেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে ঘর হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে সরকার দেখছে, কিছু রাজনৈতিক দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করতে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অতীত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়েও তাদের মধ্যে একই ধরনের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে দেশে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাবেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও কমে যাবে।
চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে আরও নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে।
জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে অতীতে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী ১০ বছরের জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা জাতীয় সংসদের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তাই এটি এখন শুধু একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি নয়, জনগণের প্রত্যাশার অংশ। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ করবে।
দেশের উন্নয়নে বিপুল জনশক্তিকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের মানুষের শ্রম ও মেধাকে উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত করতে পারলে অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় একই সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেও অর্থনৈতিকভাবে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এখন দেশ গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সময়।
এর আগে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরের অংশ হিসেবে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়িতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরে হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী।