বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ফাইল ছবি
রাজনীতি, ইতিহাস এবং দলীয় সংস্কৃতির বাস্তবতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। বুধবার (৫ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতার রাজনীতিতে ভিন্নমত পোষণকারীদের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান।
পোস্টে মাহফুজ আলম বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা বা নীতিনির্ধারকদের একজন হয়েও যদি কেউ সরাসরি সেই দলে যোগ না দেন, তাহলে পরবর্তীতে সেই দলের নেতাকর্মীরা তার অবদান পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারেন। এমনকি দলীয় অনুষ্ঠান, স্মরণসভা বা গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাইলফলকেও তার নাম উল্লেখ করা হয় না।
তার ভাষ্য, কোনো কারণে নাম এলেও তা ইতিবাচকভাবে নয়, বরং দায় চাপানোর প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করা হয়। এভাবেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সুবিধামতো ইতিহাস নির্মাণ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতিকে একটি মাছের পুকুর বা বাজারের সঙ্গে তুলনা করে মাহফুজ আলম লেখেন, "ইতিহাস এক মাছের পুকুর কিংবা বাজার।" তিনি বলেন, এখানেও 'মাৎস্যন্যায়' বা বড় শক্তির ছোট শক্তিকে গ্রাস করার প্রবণতা বিদ্যমান। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের বয়ানও বদলে যায় এবং নতুন ক্ষমতাসীনরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ইতিহাস লিখে থাকে।
তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট আদর্শিক গোষ্ঠীর বিরোধিতা করলে একজন ব্যক্তিকে এমনভাবে ইতিহাস থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে, যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। আর যদি তার অস্তিত্বের কথা উল্লেখও করা হয়, তবে তাকে 'গাদ্দার' বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিত্রিত করা হতে পারে।
অন্যদিকে, একই আদর্শিক গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে পারলে ইতিহাসের অন্যতম প্রধান চরিত্রে পরিণত হওয়াও সম্ভব বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই উপদেষ্টা।
পোস্টের শেষাংশে ক্ষমতা ও ইতিহাসের সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মাহফুজ আলম। তিনি লেখেন, "যার হাতে ক্ষমতা থাকে, মূলত ইতিহাসও সে-ই লেখে।" তার মতে, কোনো দল বা আদর্শিক গোষ্ঠী ক্ষমতায় গেলে ইতিহাসের ওপর তাদের এক ধরনের একচ্ছত্র কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই ক্ষমতার বলেই তারা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী ইতিহাস রচনা করে, পাশাপাশি ভিন্নমত বা অপ্রয়োজনীয় মনে করা ব্যক্তিদের ধীরে ধীরে ইতিহাসের বাইরে সরিয়ে দেয়।
মাহফুজ আলমের এই পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।