বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে সংযত অবস্থান বজায় রাখার পর নয়াদিল্লি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ অনুরোধকে "প্রযোজ্য আইন ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিবেচনাধীন" বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ার বার্তাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়; তবে দিল্লির কূটনৈতিক ভাষায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এতদিন বিষয়টি নিয়ে সীমিত প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এখন আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা ও পর্যালোচনার বিষয়টি সামনে এসেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের হয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের সংসদীয় কমিটিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার সময় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গও ওঠে। জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন ও প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। সংসদীয় কমিটিও এ বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত জানাতে সরকারের প্রতি সুপারিশ করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, "পর্যালোচনাধীন" শব্দের ব্যবহার কূটনীতিতে সাধারণত সরাসরি সম্মতি বা প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দেয় না। বরং এটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের জন্য একটি কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার ভাষা।
তাদের মতে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এখন কেবল আইনি প্রশ্ন নয়; এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িত। তাই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দিল্লি রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত সব দিক বিবেচনায় রাখবে।
ভারত সরকারও জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এ অবস্থানকে দেশটির সংসদীয় কমিটিও সমর্থন জানিয়েছে।

অন্যদিকে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার এই ঘোষণার পর প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, চীনের সঙ্গে ঢাকার ক্রমবর্ধমান যোগাযোগ, সীমান্ত সহযোগিতা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক কৌশলগত বাস্তবতা সবকিছু মিলিয়ে শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।