বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত জুলাই গণসমাবেশে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যকর করতে সরকার ও সংসদ—উভয় ক্ষেত্রেই তাদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণসমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি জানান, আগামী ৪ আগস্ট সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে গঠিত সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গৃহীত ৩১ দফাসহ জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ওই বৈঠকের মাধ্যমে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয় এবং এই সংস্কার শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনাই এর লক্ষ্য। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের পথ সুগম করবে।
নতুন ধরনের ফ্যাসিবাদের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের জাতীয়তাবাদী ফ্যাসিবাদের অবসান হলেও ধর্ম কিংবা বিভিন্ন বয়ানকে ব্যবহার করে নতুন বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী মব তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়। তবে ধর্ম, লিঙ্গ পরিচয় বা অন্য কোনো পরিচয়ের ভিত্তিতে কারও নাগরিক অধিকার খর্ব করা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং জনগণকে এ ধরনের উসকানির বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি নাগরিকের সমান মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর’ নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সহায়তায় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রথম ধাপে শিক্ষায় দুই শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে এক শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অতীতে আর্থিক খাত থেকে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এখন সেই খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত সংস্কারের অনেকগুলো এখনো বাস্তবায়িত না হওয়ায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি জানালেও সেটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। একইভাবে নারী ও শিক্ষা খাতের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগও বিভিন্ন কারণে থমকে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র ফেডারেশন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।