বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সরকার শিগগিরই জনগণের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই কয়েক দফায় জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে এবং আবাসিক পর্যায়েও গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হামলায় আহত এনসিপি নেতা আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, অনেক মানুষ নিয়মিত গ্যাস না পেলেও পুরো বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা পরিবহন খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে। গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পদ্ধতিতে সরকার দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনা করতে পারবে না এবং খুব দ্রুতই জনরোষের মুখোমুখি হবে।
সরকারকে পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ করতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ। তাঁর ভাষ্য, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং জনগণের বড় অংশের মতামত উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতা ধরে রাখতে হলে সরকারকে দমন-পীড়নের পথেই হাঁটতে হবে। একই সঙ্গে জনগণকে সম্ভাব্য রাজনৈতিক দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, পদবঞ্চিত নেতাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে নাহিদ বলেন, যিনি নিজের দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না, তাঁর পক্ষে পুরো দেশ পরিচালনা করাও সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও দল—উভয় ক্ষেত্রেই নেতৃত্বের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আহত আলিফ চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নাহিদ জানান, তাঁর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য চোখের অবস্থাও চিকিৎসকেরা এখনো নিশ্চিত করতে পারেননি। চিকিৎসকদের বোর্ড বৈঠকের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনার তিন দিন পার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে আলিফের খোঁজখবর না নেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি। নাহিদের দাবি, ভিডিও ফুটেজে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় স্পষ্ট হলেও এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলে রাজনৈতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারি দলের সংসদ সদস্যদেরও সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে দেওয়া বক্তব্য আর মাঠের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। হবিগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিএনপির সংসদ সদস্য জি কে গউছের রাজনৈতিক দায় রয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চা থাকলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত ছিল অথবা দল থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। একই সঙ্গে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নীরবতারও সমালোচনা করেন তিনি।