বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন নেতাদের দলবদল এবং অন্যান্য দলের নেতাদের দলে টানার ক্ষেত্রে যতটা তৎপর পুরোনো ও ত্যাগী নেতাদের ফেরাতে সেই আগ্রহ নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন দল ছেড়ে যাওয়া সাবেক নেতারা।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর এনসিপি দ্রুত সংগঠন গড়ে তুলছে। কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নতুন কর্মসূচি এবং সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা হলেও, দলের প্রতিষ্ঠার সময় সক্রিয় থাকা নেতারা রাগ-অভিমান ও অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের কারণে দল ছেড়ে গেছেন।
সাবেক যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন অভিযোগ করেছেন, দল শুরুতে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালুর কথা বললেও বাস্তবে বর্তমান রাজনীতি পুরনো ধাঁচে চলছে। পুরোনো নেতাদের ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেই।
নতুন নেতাদের যোগদানের জন্য এনসিপি গঠন করেছে ‘ন্যাশনাল সার্চ কমিটি’। যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন, পুরোনো নেতাদের ফেরানো বিষয়ও এই কমিটির আওতাভুক্ত হবে। কিন্তু মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাত জানিয়েছেন, কমিটির কাজ শুধু নতুন যোগদানকারীদের যাচাই ও সম্মানজনক পদে নিশ্চিত করা।
সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব আরিফ সোহেল অভিযোগ করেছেন, দল এখন ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে। “দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘ক্ষমতা না জনতা’ স্লোগান নিয়ে। সংসদে সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ার পরও কোনো পদত্যাগ হয়নি। যা স্পষ্ট প্রমাণ যে এনসিপি আপস করেছে।
গত কয়েক মাসে বিএনপি, আপ বাংলাদেশ, বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য নাম: সাবেক যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি, সামাজিক আন্দোলনকর্মী মহিউদ্দিন রনি, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি ফেরসামিন হক ইকবাল।
এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমিরের সন্তান মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান, আবদুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, অধ্যাপক এম এ এইচ আরিফ এবং গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন।
সাবেক নেতারা মনে করছেন, এনসিপি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা স্বচ্ছ নীতি প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে না। যে আদর্শিক জায়গা থেকে আমরা বের হয়ে এসেছি, সেই প্রশ্ন এখনও মীমাংসিত হয়নি। দলের বর্তমান অবস্থান ও আমাদের অবস্থান পুরোপুরি আলাদা বলেছেন আরিফ সোহেল।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপি স্বচ্ছ ও বিকল্প অর্থনৈতিক নীতি তৈরি না করে শক্তিশালী দলছুট নেতাদের দলবদল করছে। এই কারণে দল নতুন রাজনীতির বাস্তব প্রতিফলন দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং পুরনো রাজনৈতিক ধাঁচের রাজনীতিতে ফিরছে।