বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
দীর্ঘ কয়েক দশক পর এক অন্যরকম নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে গোপালগঞ্জ-২ (সদর ও কাশিয়ানীর আংশিক) আসনে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার ত্রিমুখী ও বহুমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী মুফতী শুয়াইব ইবরাহীম।

সম্প্রতি ‘দেশের কণ্ঠ’ কর্তৃক পরিচালিত একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই আসনে মুফতী শুয়াইব ইবরাহীমের ‘রিকশা’ মার্কার বিজয়ের জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ভোটারদের একটি বড় অংশ ইনসাফ ও ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে ওলামায়েকেরাম সমর্থিত প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জরিপের ফলাফল ও জনমত
‘দেশের কণ্ঠ’-এর জরিপ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের পর সাধারণ ভোটাররা এবার বিকল্প নেতৃত্বের খোঁজ করছেন। বিশেষ করে মুফতী শুয়াইব ইবরাহীম স্থানীয় ইসলামপুর ভবানীপুর মাদরাসার নাযেম ও ভাইস প্রিন্সিপাল হওয়ায় তাঁর প্রতি ধর্মীয় ও সামাজিক একটি গভীর ভক্তি আগে থেকেই বিদ্যমান। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটাররা মনে করছেন, গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে একজন আলেম জনপ্রতিনিধি হিসেবে আসলে এলাকায় ইনসাফ কায়েম হবে।
নির্বাচনী মাঠের চিত্র
আসনটিতে এবার মোট ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি’র ধানের শীষের পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীরা। তবে মুফতী শুয়াইব ইবরাহীমকে ঘিরে স্থানীয় আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তাঁকে রেসের শীর্ষে নিয়ে এসেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সদরের কাজীর বাজার ও চরমানিকদাহ এলাকার সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে যেখানে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে একঘেয়েমি ছিল, এবার সেখানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভোটাররা বলছেন, “এবার আমরা ব্যক্তি এবং নৈতিকতা দেখে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।”
চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
গোপালগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৩২৬ জন। যদিও ভোটারদের মনে কিছুটা ভয় ও গ্রেফতার আতঙ্ক কাজ করছে, তবুও ‘রিকশা’ মার্কার সমর্থকরা নিরব বিপ্লবের আশা করছেন। জেলার শীর্ষ স্থানীয় ওলামায়েকেরাম মনে করছেন, গোপালগঞ্জের মানুষ বরাবরই আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (রহ.)-এর উত্তরসূরিদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেই আবেগ এবং আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি—এই দুইয়ে মিলে মুফতী শুয়াইব ইবরাহীমের পালে হাওয়া দিচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের রাজনীতির এই নতুন ‘হিসাব’ শেষ পর্যন্ত কতদূর যায়।