বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। একই সময়ে রপ্তানি আয়েও প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। তবে রেমিট্যান্সের তুলনায় রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির হার কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে প্রবাসীরা প্রায় ১ হাজার ১৪৬ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ১৫ কোটি ডলার। সে হিসাবে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ।
অন্যদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরের (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্যেও রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি আয় বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ।
রেমিট্যান্স ও রপ্তানি দুই খাতই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
রোববার (১ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এসব হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, রেমিট্যান্স গত জুলাইয়ে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, আগস্টে ২২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে ৩ শতাংশ, অক্টোবরে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে আগস্টে। মাসটিতে প্রায় ২৯৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এ ছাড়া জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৭৭ কোটি ডলার ও অক্টোবরে ২৮৭ কোটি ডলারের মতো রেমিট্যান্স এসেছে।
এদিকে গত জুলাই-অক্টোবর সময়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৭০৮ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল প্রায় এক হাজার ৬১৪ কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু অক্টোবর মাসে পণ্য রপ্তানিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর আগের মাস সেপ্টেম্বরের তুলনায় গত অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১ শতাংশর মতো।
গত অক্টোবর মাসে ৩৯৯ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় এসেছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে রপ্তানি আয় হয়েছিল প্রায় ৩৯৩ কোটি ডলার। আগস্টে এটি ছিল ৪৪৩ কোটি ডলার। আর গত জুলাই ৪৭৩ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় আসে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। এ খাতে রপ্তানি হয়েছে এক হাজার ৩৭৪ কোটি ডলারের। গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল এক হাজার ২৯৯ কোটি ডলারের পোশাক। গত চার মাসে নিটওয়্যারে রপ্তানি প্রায় ৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। ওভেন পোশাকে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
এ ছাড়া পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ, হোম টেক্সটাইল প্রায় ৮ শতাংশ হারে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এসেছে। তবে কৃষিপণ্যের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ কমে গেছে। কমেছে হিমায়িত ও জীবন্ত মাছের রপ্তানিও।
বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিকভাবে রপ্তানি আয় পোশাকবহির্ভূত কয়েকটি খাতের সম্প্রসারণে সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ধারা ধরে রাখতে পণ্যের মান ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং পিছিয়ে থাকা খাতগুলোর প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
রপ্তানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, রপ্তানি বাড়ছে। কিন্তু বার্ষিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে শুধু এই ধারা ধরে রাখা যথেষ্ট নয়। প্রবৃদ্ধির গতি আরও বাড়াতে হবে।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে উত্থান-পতন দেখা গেছে। ২০১৬-১৭ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত রপ্তানি আয়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনা অতিমারির প্রভাবে রপ্তানি আয় প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়। পরবর্তী দুই অর্থবছরে রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ায় এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৪.৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।
তবে এ উচ্চ প্রবৃদ্ধির পর রপ্তানি আয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংশোধিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী রপ্তানি আয় যথাক্রমে প্রায় ১১ ও ৪ শতাংশ কমে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সাড়ে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি আয় আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ০.৫৮ শতাংশ কমে যায়।