বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক স্বস্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মূল নিট পেনশনের হার ৫৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন এ কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১৮ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে এই পুনর্নির্ধারিত পেনশন সুবিধা কার্যকর বলে গণ্য হবে। এছাড়া বর্তমানে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) থাকা কর্মচারীরাও এ সুবিধার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নতুন নীতিমালায় আজীবন পারিবারিক পেনশন গ্রহণকারী বিধবাদের জন্য একটি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটানো হয়েছে। প্রচলিত নিয়মে প্রতি বছর হিসাবরক্ষণ অফিসে সশরীরে গিয়ে বা লিখিতভাবে পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন আদেশে ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী বিধবাদের ক্ষেত্রে এই প্রত্যয়নপত্র জমার বিধান সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত নিট পেনশনের ভিত্তিমূল্যের ওপর ধাপভিত্তিক এই বর্ধিত হার কার্যকর হবে:
৯ হাজার টাকা বা তার কম: ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন পেনশন দাঁড়াবে ন্যূনতম ১০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা।
৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা: ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন পরিসীমা হবে ১৮ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা।
২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা: ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন হার হবে ৩৫ হাজার ১ টাকা থেকে ৪৯ হাজার টাকা।
৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা: ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে ৪৯ হাজার ১ টাকা থেকে ৬২ হাজার টাকা।
৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি: ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নতুন পেনশন হবে সর্বনিম্ন ৬২ হাজার ১ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা।
তবে যেসব অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ইতোমধ্যে ৭০ হাজার ২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন পাচ্ছেন, আগামী ১ জুলাই ২০২৭-এর বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পর্যন্ত তাদের বর্তমান উত্তোলিত অর্থই অপরিবর্তিত থাকবে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে পেনশনযোগ্য চাকরির ন্যূনতম মেয়াদ ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ বছর চাকরি সম্পন্ন হলে মূল বেতনের ২১ শতাংশ হারে পেনশন পাওয়া যাবে। চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী এটি ক্রমান্বয়ে বাড়বে—১০ বছরে ৩৬ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ, ২০ বছরে ৭২ শতাংশ এবং ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরির জন্য সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পেনশন নির্ধারিত হবে।
এছাড়া ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো কর্মচারী শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বা মৃত্যুবরণ করলে, চাকরির প্রতি বছরের বিপরীতে সর্বশেষ প্রাপ্ত ৩টি মূল বেতনের সমপরিমাণ এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি অবসরকালীন সময়ে অর্জিত ছুটি পাওনা থাকা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ লাম্পগ্রান্ট (ছুটি নগদায়ন) হিসেবে পাবেন কর্মচারীরা, যা পিআরএল না নিলেও প্রযোজ্য হবে।