বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলের বলরুমে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম)-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের পথ সুগম করতে সরকার ও অ্যামচ্যাম যৌথভাবে কাজ করবে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক সুযোগের পরিধি বাড়াতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। জমকালো এই আয়োজনে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন আজাদ, সাবেক সভাপতিবৃন্দ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত তিন দশক ধরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে অ্যামচ্যাম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি সাধারণ বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম নয়, বরং সরকারি নীতি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বের মধ্যে একটি কার্যকর ও গতিশীল সেতু হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক কেবল বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মার্কিন কোম্পানিগুলো তাদের প্রযুক্তি, বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে গভীর অবদান রেখে চলেছে। দেশে অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো এ পর্যন্ত ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং জাতীয় রাজস্বে ২০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর মার্কিন ব্যবসায়ীদের অবিচল আস্থার এক বড় প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যামচ্যাম নেতৃবৃন্দের সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে আরও ৫০০ কোটি ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ নিয়ে আসার ব্যাপারে চেম্বারের পক্ষ থেকে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সরকার এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। যেকোনো যৌক্তিক ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধানে সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সম্প্রতি অ্যামচ্যামের সদস্য প্রতিষ্ঠান কোর্টেভা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা সরকারের হস্তক্ষেপে মাত্র এক মাসের মধ্যেই সমাধান করা হয়েছে।
কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, তরুণ দক্ষ জনশক্তি ও বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের কারণে প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন, স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক উৎপাদন খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ টানতে শুধু সুযোগই যথেষ্ট নয়, নীতিমালার ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীল পরিবেশ সবচেয়ে বেশি জরুরি। ব্যবসা সহজীকরণ, পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।