বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ডিজিটাল লেনদেন আরও সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকদের বিল ও বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধ সহজ করতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন এ ব্যবস্থায় প্রচলিত সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে গ্রাহকেরা তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন বিল ও সেবার খরচ মেটাতে পারবেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বিল ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাবে।
এর আওতায় ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবার ফি, টোল, টিকিটের মূল্য, কর ও বিভিন্ন সরকারি ফি পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি আমানতের কিস্তি, বীমার প্রিমিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত অন্যান্য ব্যয়ও এ সুবিধার আওতায় আসবে।
তবে এ ঋণের অর্থ গ্রাহকের হাতে নগদ দেওয়া হবে না। অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারীর হিসাবে অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, ঋণের পরিমাণ ও সময়সীমার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।
৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৬ টাকা ফি নেওয়া যাবে।
অন্যদিকে ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য ৭ দিনের মেয়াদে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা ফি নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
ঋণের মূল অর্থ ও নির্ধারিত ফি যথাক্রমে অষ্টম, ১৬তম অথবা ৩১তম দিনে সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে।
‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’-এর অর্থ কোনোভাবেই নগদে নেওয়া যাবে না। গ্রাহকের মোবাইল ওয়ালেটে যোগ করা কিংবা অন্য কোনো ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তরের সুযোগও থাকবে না।
অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেবা প্রদানকারীর কাছেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
গ্রাহক চাইলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো সুদ, প্রি-পেমেন্ট, আর্লি সেটেলমেন্ট বা ফোরক্লোজার চার্জ নেওয়া যাবে না।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দৈনিক ভিত্তিতে জরিমানা বা ফি আরোপ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা অনুসরণ করতে হবে।
ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহককে ঋণের ধরন, পরিমাণ, প্রযোজ্য ফি, মেয়াদ এবং পরিশোধের নিয়মসহ গুরুত্বপূর্ণ সব শর্ত স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
পাশাপাশি গ্রাহকদের ডিজিটাল ঋণ ব্যবহারে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বিকল্প ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। গ্রাহকের আর্থিক ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ঋণের সীমা নির্ধারণ করতে হবে।
গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ডিজিটাল অনবোর্ডিং সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে ওটিপি, দুই স্তরের যাচাইকরণ (টুএফএ), মাল্টিফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) অথবা সমমানের নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রাহক ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে থাকা ডেটা ওয়্যারহাউসে সংরক্ষণ করতে হবে। এসব তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওপর থাকবে।
নতুন এ সুবিধা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং অন্যান্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে।
এর ফলে ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা বা ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত গ্রাহকদের কাছেও এ ধরনের ক্ষুদ্র অঙ্কের ডিজিটাল ক্রেডিট সহজে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে সরাসরি বাণিজ্যিকভাবে ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ চালু করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংককে প্রথমে কমপক্ষে ছয় মাস পাইলট ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
পাইলট প্রকল্পের কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়নের পর ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এ সুবিধা চালু করা যাবে।
বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-কে পাইলট কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদিত প্রোডাক্ট প্রোগ্রাম গাইডলাইন (পিপিজি) সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ছোট অঙ্কের বিভিন্ন বিল ও জরুরি সেবার খরচ তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিশোধের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে নগদনির্ভরতার পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।