বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে নতুন করে বিনিয়োগ করতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং দেশে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে একাধিক প্রস্তাব ও পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সদর দপ্তরে এক সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকারী ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের অনেকেই ইতোমধ্যেই বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছেন। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দুই দেশের মধ্যকার স্থলবন্দরগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁরা উল্লেখ করেছেন, স্থলবন্দরের সীমিত কার্যক্রমের কারণে ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠীর কাঁচামাল আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া অবকাঠামোগত খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে একটি বিশেষ ট্রাস্ট গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে।
একই সঙ্গে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়ে বেশ কিছু বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দিয়েছে, যা সরকারের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। মার্কিন শুল্কসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বাংলাদেশের ওপর এই নীতি প্রয়োগ করা হয়নি, বরং বিভিন্ন দেশের ওপরও একই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ শুল্কের বাইরে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে অন্যতম সর্বনিম্ন হার।
দেশের প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকেই দেশের রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি ছিল এবং বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রেই এটি একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তবে অর্থনীতির সার্বিক আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানি ও রপ্তানি—উভয় খাতের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে ভিয়েতনামের মোট বাণিজ্য প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ডলার হলেও বাংলাদেশের তা প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারে সীমাবদ্ধ থাকার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, সিলেট নগরীতে কোনো ধরনের মাদক, অনলাইন জুয়া কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বরদাশত করা হবে না। এর আগে তিনি এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নগরীর সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশদ বৈঠক করেন। পরবর্তীতে মন্ত্রী দক্ষিণ সুরমার শাহপরাণ (রহ.) বাইপাস সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১৮৮ একর জমিতে প্রস্তাবিত নতুন বিসিক শিল্পনগরীর স্থান পরিদর্শন করেন এবং জানান যে উন্মুক্ত জায়গা বাদ দিয়ে সেখানে প্রায় ১১০ একর জমিতে কার্যকর প্লট তৈরি করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি প্রধান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে বিদ্যমান বাইপাসটিকে ছয় লেনে উন্নীত করার ডিপিপি প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।