বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

প্রতীকি ছবি
বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা অলস ও অতিরিক্ত তারল্যের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিলে বিনিয়োগ হচ্ছে। এর ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সরকারি স্বল্পমেয়াদি এই সিকিউরিটিজের সুদহার বা ইল্ড ২১ থেকে ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার আগের সপ্তাহের ৯ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। দীর্ঘ বিরতির পর ৯১ দিনের বিলের সুদহার আবারও ৯ শতাংশের নিচে নামল।
একইভাবে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার আগের সপ্তাহের ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে কমে ৯ দশমিক ০৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর ৩৬৪ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহার ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।
ব্যাংকাররা জানান, মূলত দুটি প্রধান কারণে ট্রেজারি বিলের সুদহার নিম্নমুখী হয়েছে:
অতিরিক্ত তারল্য ও ঋণ চাহিদায় স্থবিরতা: ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত তারল্য থাকলেও বেসরকারি খাতে কাঙ্ক্ষিত ঋণ চাহিদা নেই। বিশেষ করে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোতে গত মে পর্যন্ত বার্ষিক আমানত প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ, যা ব্যাংকে অলস তহবিলের পরিমাণ বাড়িয়েছে।
নিরাপদ সরকারি সিকিউরিটিজে বাড়তি বিনিয়োগ প্রতিযোগিতা: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ট্রেজারি বিল স্বল্পমেয়াদে নিশ্চিত মুনাফার অন্যতম জনপ্রিয় ক্ষেত্র হওয়ায় ব্যাংকগুলো এতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। ফলে নিলামে বিলের চাহিদা ব্যাপক বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই সুদহার কমে এসেছে।
এদিকে আমানত প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি আগস্ট মাস থেকেই দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের স্থায়ী আমানতের সুদহার ৫০ থেকে ১০০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত কমিয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত মোট বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৯৫ হাজার ৩৫৯ কোটি টাকায়, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা।
২০২৩ সালের ১ জুলাই ঋণের ওপর ৯ শতাংশের নির্দিষ্ট সুদসীমা তুলে দিয়ে ‘স্মার্ট’ (SMART) ভিত্তিক কাঠামো চালুর পর থেকেই সরকারি বিল ও বন্ডের সুদহার বাড়তে শুরু করে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে একপর্যায়ে তা ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে সুদহার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও ঝুঁকিমুক্ত সম্পদ হিসেবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারি সিকিউরিটিজের আকর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।