বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ফাইল ছবি
সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর সাধারণ আমানতকারীরা অর্থ উত্তোলনে নানা বিধিনিষেধের মুখে পড়লেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত মে মাসের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি চিকিৎসা ও পারিবারিক প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান করপোরেট শাখায় থাকা নিজের হিসাব থেকে ৩০ লাখ টাকা উত্তোলনের আবেদন করেন। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন স্কিম-২০২৫-এর ২১ ধারার আওতায় ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, রাষ্ট্রপতির আবেদন বিশেষ বিবেচনায় অনুমোদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু রাষ্ট্রপতিই নন, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে আরও কয়েকজন আমানতকারীও একই ধরনের অনুমতি পেয়েছেন। তবে কারা সেই সুবিধা পেয়েছেন বা কোন পরিস্থিতিকে বিশেষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বর্তমানে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজল্যুশন কাঠামোর অধীনে রয়েছে। এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী করা হচ্ছে। দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতধারীরা অর্থ তুলতে পারলেও বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত কার্যকর রয়েছে।
রেজল্যুশন স্কিমে ক্যানসার রোগী, ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রভিডেন্ট ফান্ড, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের মতো কয়েকটি শ্রেণিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির আবেদন এই তালিকার বাইরে থাকায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠায়।
ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা, বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় কিংবা গুরুতর মানবিক কারণে সীমিত পরিসরে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে। সেই প্রেক্ষাপটেই রাষ্ট্রপতির আবেদনও বিবেচনা করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন লিখিত বক্তব্যে জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদার কারণে নয়, একজন সাধারণ গ্রাহক হিসেবেই আবেদন করেছিলেন। তিনি বলেন, আবেদনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ব্যয়, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং ঈদুল আজহার খরচের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির (বেতন ও বিশেষাধিকার) আইন অনুযায়ী বিনা খরচে চিকিৎসার সুবিধা শুধু রাষ্ট্রপতি এবং তার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। তার ছোট বোন ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বর্তমানে ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় তাদের সহায়তার প্রয়োজন থেকেই তিনি অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেন।
তিনি আরও জানান, অনুমোদন পেলেও এখন পর্যন্ত গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক থেকে ওই অর্থের কোনো অংশ উত্তোলন করা হয়নি।
রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর প্রশ্ন তুলেছেন অনেক আমানতকারী। তাদের বক্তব্য, সাধারণ গ্রাহকরা যখন কড়া বিধিনিষেধের মধ্যে নিজেদের অর্থ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তখন একই নিয়মের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।