বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ছবি : সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির আশায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে বৃহস্পতিবার বড় ধরনের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। তবে মার্কিন ডলারের মান কিছুটা কমেছে এবং তেলের বাজার এখনও সামঞ্জস্যের চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
দীর্ঘ ছুটির পর লেনদেনে ফিরে জাপানের প্রধান শেয়ারসূচক নিক্কেই প্রথমবার ৬২ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছে। শক্তিশালী করপোরেট মুনাফা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক বিনিয়োগের উচ্ছ্বাসে দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের বাজারও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান সূচক এমএসসিআই ১ শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে সূচকটি প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ডটকমের বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি কার্যকর হলে তা বড় অগ্রগতি হবে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে আলোচনা অব্যাহত থাকলে এশিয়ার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকবে।
ইরান জানিয়েছে, তারা শান্তি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিতকরণ এবং হরমুজ প্রণালির পুনরায় খোলার মতো যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবি এখনও সমাধান হয়নি।
আন্তর্জাতিক বাজারে বুধবার তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ কমেছিল। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২.১১ ডলারে ওঠলেও পরে তা ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের তুলনায় বর্তমান দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের সরকারি বন্ডের সুদহারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ওসিবিসি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি খুললেও তেলের দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম, কারণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষতি এবং সংরক্ষিত মজুত বাড়ানোর প্রবণতা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি বজায় আছে।
মুদ্রাবাজারে ইউরো ও ব্রিটিশ পাউন্ড শক্তিশালী হয়েছে, আর ডলার কিছুটা দুর্বল হয়েছে। জাপানি ইয়েনের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে টোকিও তাদের দুর্বল মুদ্রাকে সমর্থন দিতে হস্তক্ষেপ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এই হস্তক্ষেপের প্রভাব সীমিত, এবং শক্তিশালী সুদনীতি, তেলের দাম কমানো ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ডের সুদহার হ্রাস সহায়ক হবে।
মার্চে তেলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি করেছিল তবে এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতির নাজুক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য চুক্তির আশায় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। প্রযুক্তি খাতের আয় বৃদ্ধিও বাজারে উচ্ছ্বাস বাড়িয়েছে।
শান্তিচুক্তি নিয়ে আশাবাদের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই শেয়ারসূচক নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে। বড় কোম্পানিগুলোর মুনাফার বৃদ্ধি গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিনিয়োগকারীদের নজর এখন শুক্রবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে।
রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, এপ্রিলে দেশটিতে নতুন কর্মসংস্থান ৬২ হাজারে পৌঁছাতে পারে, যা মার্চের ১ লাখ ৭৮ হাজারের তুলনায় কম।