বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে বৈঠক শেষে কথা বলছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির- ছবি: সংগৃহীত
বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এআইভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করবে, যাতে দেশের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়। তিনি আরও জানান, আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কৌশলগত খাদ্য মজুত গড়ে তোলা হবে।
ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা একটি এআই জেনারেটেড মডেল তৈরি করতে যাচ্ছি, যার মাধ্যমে আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে। এতে বাজারের অস্থিরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
এছাড়া বর্তমানে দেশের পর্যাপ্ত স্টোরেজ সুবিধা নেই যা বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তবে মন্ত্রী বলেছেন, আমরা এক বা দুই মাসের ভোজ্যতেলের সমপরিমাণ মজুত রাখার পরিকল্পনা করছি। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হতে পারবে না।
বাণিজ্যমন্ত্রী কোরবানির ঈদের সময় পশুর চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদের পর যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়, সে জন্য মসজিদের ইমামসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ এবং মাদ্রাসা সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিসিকের মাধ্যমে সারা দেশে লবণ সরবরাহ করা হবে এবং চামড়ায় লবণ প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হবে বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী আরও জানান, কোরবানির পশু সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই কারণ গবাদিপশুর সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি। এ বছর ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি কুরবানিযোগ্য গবাদিপশু রয়েছে। যার মধ্যে চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।
তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে গরু অবৈধভাবে প্রবেশ রোধে বিজিবি ও পুলিশ কঠোর নজরদারি করবে। কোনো অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।
মন্ত্রী টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও জানান। তিনি বলেন, টিসিবির সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে যাতে নীতিগত সিদ্ধান্তে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা যায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বাজার ব্যবস্থাপনায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন যুগের পদক্ষেপ। এটি মজুত এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এআই প্রযুক্তি আমাদের নির্ধারিত খাদ্য মজুত ঠিকমতো সরবরাহ করতে সাহায্য করবে যাতে বিশ্ববাজারে সংকট বা অন্যান্য বিপর্যয়ের মধ্যে দেশের বাজারে কোন প্রভাব না পড়ুক বলেন তিনি।
এর আগে গত ৩ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছিলেন চলতি বছর কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। অন্যদিকে কুরবানির চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি।
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় চলতি বছর দেশে ২২ লাখ ২৭ হাজারের বেশি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত থাকতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ফলে কুরবানির পশু নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
সীমান্ত দিয়ে কুরবানির পশু যাতে অবৈধভাবে দেশে ঢুকতে না পারে সেজন্য সরকার কঠোর নজরদারি করবে বলেও জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবি, পুলিশসহ কঠোর নজরদারি করা হবে। কোনো অনুপ্রবেশ বরদাস্ত করা হবে না।
মন্ত্রী আরও জানান, হাট এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে। সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবে। অনলাইনে পশু বেচাকেনায় খাজনা বা হাসিল দিতে হবে না। কুরবানির পশুর ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। এরই মধ্যে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।