বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:
৫৫/এ, এইচ এম সিদ্দিক ম্যানশন, লেভেল-৭ পুরানা পল্টন
ঢাকা-১০০০, ফোন: +৮৮০২২২৬৬৪০০৫৬
e-mail: [email protected],
[email protected]

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) সেমিনার -ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে সরকারকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) এক সেমিনারে এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা উঠে আসে যেখানে রাজস্ব ও আর্থিক খাতে জরুরি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও জোরালোভাবে বলা হয়।
পিআরআইর প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এটি ‘হাইপাওয়ারড মানি’ বা সহজভাবে বলতে গেলে নতুনভাবে সৃষ্ট অর্থ যা সরাসরি মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আয় কম থাকায় সরকার উচ্চ সুদের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতি কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও তা স্থিতিশীল ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়নি। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে প্রায় ৩ শতাংশে যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে সর্বনিম্ন।
এছাড়া ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছানোয় আর্থিক খাতও চাপের মধ্যে রয়েছে। এর প্রভাবে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬ শতাংশে নেমেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা, আসন্ন এলডিসি উত্তরণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতির অনিশ্চয়তা এই তিনটি বড় চাপ একসঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।
এর ফলে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আইসিসিবি সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। টাকা ছাপিয়ে অর্থায়ন বাড়লে তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিনিয়োগে দ্বিধা রয়েছে যা বিদেশি বিনিয়োগেও প্রভাব ফেলছে।
পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই।
তিনি ১৯৯১ সালের মতো বড় অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর বড় অংশই অভ্যন্তরীণ কারণে তৈরি হয়েছে। তাই সাহসী ও দেশীয় উদ্যোগে সংস্কার প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা সামগ্রিকভাবে সতর্ক করেন, আর্থিক খাতে অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং টাকা সরবরাহ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে না এলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।